সেবা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উত্খাত করা হয়। সেদিন যে সেনারা অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল তারা ঢাকায় রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে পরিবারের আরো ১৮ সদস্যের সঙ্গে তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছিল। তারা আমার নানা শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নানি, তিন মামা ও গর্ভবতী এক মামিকে হত্যা করে। আমার মা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন তার বোনের সঙ্গে জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ওই ঘটনার ৪০ বছরের বেশি সময় পরও আমার পরিবারের গুপ্তঘাতকদের একজন রাশেদ চৌধুরী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে বসবাস করছে। তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা এক মুক্ত-মতামতে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, ঢাকার একটি আদালতে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার হয়েছে এবং তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে শুরু বাংলাদেশের বিচার থেকে পালিয়ে থাকা রাশেদ চৌধুরী তার অপরাধের জন্য এখনো সাজা পাননি। বাংলাদেশ তাকে হস্তান্তর করার জন্য ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করে। বাংলাদেশ এজন্য দেড় দশকের বেশি সময় অপেক্ষা করছে। আমার নানাকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমার বয়স চার বছর ছিল। তার মৃত্যু আমার ও আমার পরিবারের জন্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই ছিল না বরং পুরো জাতি তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ছিল। কারণ তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তাঁকে মানুষ বঙ্গবন্ধু হিসেবে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রাশেদ চৌধুরীর বর্তমান অভিবাসন অবস্থান অস্পষ্ট। তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হলে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও রাজনৈতিক প্রতারণা, সন্ত্রাসবাদ আর ফেডারেল মার্ডারের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করে। রাশেদ চৌধুরী একমাত্র গুপ্তঘাতক নন যিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছেন। ২০০৭ সালে আরেক গুপ্তঘাতক মহিউদ্দিন আহমেদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন মার্কিন আদালত বাতিল করে দেয়। তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর পর ২০১০ সালে আরো চার জনের সঙ্গে তারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যেহেতু রাশেদ চৌধুরীর আশ্রয় আবেদন গৃহীত হয়নি তাই তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে দেরি করার কোনো কারণ নেই। ন্যায়বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দেওয়া।