সেবা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা হাঙ্গেরি যাত্রাপথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে বলেছেন, সন্দেহ করা হচ্ছে এটি কোন যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না, এটি মনুষ্যসৃষ্ট। যাদের কাছ থেকে উড়োজাহাজগুলো কেনা হয়েছে তাদের ৬ হাজার প্লেন পৃথিবীতে চলছে। তাদের কোন প্লেনে এই ধরণের কোন যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের সমাপনি বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের শক্ত হাতে দমন করেছি। তাই আমি জানি আমার জীবন যে কোন সময় যেতে পারে। কিন্তু সেটা নিয়ে আমি ভয় করি না। জীবন দেওয়ার ও নেওয়ার মালিক আল্লাহ। যতদিন বেঁচে আছি, যতক্ষণ শ্বাস আছে ততক্ষণ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির সব পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি আলোচনার মাধ্যমে যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চাইবেন, আমরা তা মেনে নেব। আমরা চাই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে অংশ না করা একটি দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। একটি দলের নেত্রী যদি নির্বাচনে না আসার ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তার খেসারত তাকেই দিতে হবে। দেশের জনগণকে তার খেসারত দিতে হবে কেন? নির্বাচনে না এসে বিএনপি নেত্রী একটি ঘরে বসে থেকে হুকুম দিয়ে দিয়ে শত শত জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করিয়েছেন। এ জন্য তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দেশের মাটিতে কোন সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের স্থান হবে না, হতে দেব না।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (সংশোধন) বিল পাস: একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কাজ পাশাপাশি অব্যাহত রাখাসহ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী পুঁজি গড়ে দেয়া এবং পল্লী অঞ্চলের সকল বাড়িকে কৃষি খামারে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধান রেখে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (সংশোধন) বিল পাস হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এসময় কয়েকজন সদস্য বিলটি বাছাই কমিটিতে প্রেরণের দাবি জানালে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিলের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। এই প্রকল্পের বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতেই বিলটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। তাই বিলে আর জনমত যাচাই-বাছাই করার কোন প্রয়োজন নেই।