নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর নিচপাড়া বাঁধ নির্মাণ না করায় হুমকীতে কয়েক গ্রাম

S M Ashraful Azom
এম. সুরুজ্জামান, শেরপুর প্রতিনিধি: কাজের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এরপরও নির্মাণ করা হয়নি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নিচপাড়া এলাকার ভোগাই নদীর ভাঙ্গন কবলিত বাঁধ-কাম পাকা রাস্তা। ফলে ওই বাঁধের আওতায় থাকা অন্তত দুইটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার বাসিন্দা আকস্মিক বন্যার আশংকা করছেন।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের শেষদিকে নর্দান প্রকল্পের আওতায় এবং এলজিইডির তত্ত্বাবধানে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দে নালিতাবাড়ী শহর থেকে সীমান্তবর্তী কালাকুমা সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক ও নিচপাড়া এলাকায় একই সড়ক সংলগ্ন পৃথক তিনটি ভাঙ্গন কবলিত স'ানে প্রায় ৫শ মিটার ভোগাই নদীর তীর রক্ষায় ‘রোড প্রটেকশন ওয়ার্ক’ এর কার্যাদেশ পায় মেসার্স রাফিয়া কনস্ট্রাকশন জেভি (জয়েন্টভেঞ্চার) নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে শুধুমাত্র ‘রোড প্রটেকশন ওয়ার্ক’ এর জন্য বরাদ্দ ধরা হয় আড়াই কোটি টাকার উপরে। কিন'ু ‘রোড প্রটেকশন ওয়ার্ক’ এর খরস্রোতা পাহাড়ি এ নদীর তীর রক্ষার ডিজাইনে সাড়ে ৮ফুট লম্বা আরসিসি পিলার স'াপন করে আরসিসি স্লাব ধরা হয়। পরবর্তীতে কাজ বাস্তবায়নে গেলে বাস্তবতার সাথে নদীর তীর রক্ষায় এ ডিজাইন যথেষ্ঠ নয় কারন দেখিয়ে ‘রোড প্রটেকশন ওয়ার্ক’ কাজ শুরুই করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ কারণে নদী তীরবর্তী অংশে বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণের কাজও করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে এবং ছোট ছোট পাহাড়ি ঢলে ইতিমধ্যেই কাঁচা সড়কটির বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। সেখানে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্তের। ফলে ভোগাই নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা রয়েছেন আকস্মিক বন্যা আতঙ্কে।

গৃহবধূ ঝর্ণা বেগম (৪০) জানান, নদী ভাঙলে আমাদের থাকার জায়গা নাই। গত বছর থেকে নদীতে পাহাড়ি ঢল আইলে জিনিসপত্র আর পোলাপান লইয়া মাইনষের বাড়িতে গিয়া উঠি। এই বছরও ঘরের জিনিসপত্র মাইনষের বাড়ি রাইখ্যা আছি।
অপর গৃহবধূ রহিমা খাতুন (২৫) জানান, কই যামু বন্যা আইলে? নেতারা আর কন্ট্রাক্টর আইলে বান (বাঁধ) বানতে (বাঁধলে) বললে তারা বলেন, ধৈর্য ধরেন, কাজ হইতাছে। কেউ আমাদের কথা হুনে না।
দিনমজুর জুয়েল রানা (২২) জানান, ২ কাঠা ভিটেবাড়ির মধ্যে আধাকাঠা নদীতে চইল্যা গেছে। এইবার নদী ভাঙলে পুরাটাই নিয়া যাইবো। আমাদের থাকার জায়গা থাকব না।
ভাঙ্গনকবলিত নদী তীরবর্তী বাসিন্দা জহুর আলী (৭৫) জানান, আমার বাড়ির সাড়ে ৪ কাঠা জমির মধ্যে গত দুই বছরে নদীগর্ভে আধাকাঠা চলে গেছে। এখন যেটুকু আছে তাও চলে গেলে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও থাকবে না।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফিয়া কনস্ট্রাকশন এর স্বত্ত্বাধিকারী সেলিম আহমেদ জানান, নদীতে যে প্রটেকশন ওয়ার্ক ধরা হয়েছে তা দিয়ে কোনমতেই এমন একটি খরস্রোতা পাহাড়ি নদী নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই আমি ওই কাজ না করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছি।

এলজিইডির নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এখনও কাজের মেয়াদ শেষ হয়নি। সাড়ে ৮ ফুট আরসিসি পিলার আর স্লাবে ভোগাই নদীর মতো নদীতীর রক্ষাবাঁধ সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বিশেষজ্ঞরা করেছেন। কাজেই কিছু বলতে পারব না।






ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top