নালিতাবাড়ী কৃষকের কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকায় খননকৃত দর্শা খাল

S M Ashraful Azom
এম. সুরুজ্জামান, শেরপুর প্রতিনিধি:  শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য খননকৃত দর্শা খালটি কৃষকের কোন কাজেই আসছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনা ও অনিয়মের কারনে উল্টো জনদূর্ভোগে পরিণত হয়েছে এটি।
শেরপুর এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ ভাগ হ্রাসকৃত মূল্যে ১ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় নালিতাবাড়ীর কাকরকান্দি-রামচন্দ্রকুড়া এ দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স'ানে ভরাট হয়ে যাওয়া দর্শা খাল পূণরায় খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। জাইকা প্রকল্পের অধীনে ও এলজিইডির তত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়ন করে রাজশাহীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মোঃ গোলাম সারোয়ার’। চলতি বছরের ১১ মে কার্যাদেশ প্রদান করে ১৭ জুনের মধ্যে শেষ করতে বলায় তড়িঘড়ি করে খাল খননের কাজ শেষ করে এবং জুনের মধ্যেই সমুদয় বিল উত্তোলন করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৬.৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির সংযোগস'ল বরুয়াজানি-মানিককুড়া গ্রামস' বুড়ি ভোগাই থেকে স'ানভেদে ৫৫/৫০ ফুট এবং ভাটিতে হালুয়াঘাট উপজেলাধীন বাঘাইতলা এলাকায় দর্শা নদীর মিলন মোহনায় সর্বনিম্ন ২৪ ফুট প্রশস্ত করার কথা। কিন্তু সংযোগস'ল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে গিয়ে নিয়মানুযায়ী চওড়া এবং গভীরতা করা হয়নি খালটির। ফলে এখন এই খালের মাঝ অংশ থেকে একাংশের পানি উজান এবং অপরাংশের পানি ভাটি এ দুই দিকেই প্রবাহিত হয়।
এছাড়াও খননকৃত খালের মাটি আশপাশের কৃষকের আবাদি জমি নষ্ট করে তত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। এতে একদিকে কৃষকের আবাদি জমি অনাবাদি পড়ে আছে। অন্যদিকে স্তুবিকৃত খালের মাটি বৃষ্টির পানিতে গড়িয়ে পূণরায় খাল ভরাট হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, খালটি সংযোগ দিতে গিয়ে বরুয়াজানি বনপাড়া-বিশগিরিপাড়া নামক এলাকায় পাকা সড়কের মাঝখানে কেটে ফেলতে হয়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস'া সচল রাখতে এখানে অস'ায়ীভাবে একটি পরিত্যক্ত বেইলি ব্রিজ স'াপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় কোটেশন বিজ্ঞপ্তি আহবান করে স'ানীয় এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে নিজেই কাজটি বাস্তবায়ন করেন উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান। এ বেইলি ব্রিজ স'াপনেও নামমাত্র এপার্টমেন্ট করে দুইপাশে এপ্রোচ না করেই জুনেই সমুদয় বিল উত্তোলন করে নেওয়া হয়।
স'ানীয় বাসিন্দা, আব্দুল মোতালেব (৬০) নওশেদ আলী (৪৫) আব্দুল বারেক (৩৫) সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সরকার স'ানীয় কৃষকের সুবিধার্থে খালটি খনন করেছেন ঠিকই। কিন্তু কাজ বাস্তবায়নকারীদের খামখেয়ালি ও অনিয়মে খালটি এখন আমাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ব্রিজটি কোনমতে রাস্তার উপর বসিয়ে চলে গেছেন তারা। কোন এপ্রোচ না থাকায় যোগাযোগে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আশপাশে যত্রতত্র মাটি রাখায় আবাদি জমিও নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে খালে পানি নেই বললেই চলে। খালের পানি সেচকার্যে ব্যবহারের বিপরীতে উল্টো জমির পানি খালে নেমে গিয়ে ধানক্ষেত শুকিয়ে গেছে।
খালটির দায়িত্বে থাকা নালিতাবাড়ী এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী চেরাগ আলী জানান, বর্ষাকাল চলে আসায় মাটি নরম হয়ে গেছে। ফলে বারবার খনন করা হলেও আশপাশের মাটি ঢলে পরে পুণরায় খাল ভরে যায়। পরবর্তী সময়ে বাকী কাজ করিয়ে ১০ ভাগ জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। 
বেইলি ব্রিজের দায়িত্বে থাকা নকশাকার কাম উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন জানান, মূলত দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ওই স'ানে একটি স্লুইচ গেইট কাম ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। সাময়িক চলাচলের জন্য শুধুমাত্র এপার্টমেন্ট করা হয়েছে।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top