বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিকদের আল্টিমেটাম

Unknown
সেবা ডেস্ক:  দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কলয়াখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে।
 
বড়পুকুরিয়া কলয়াখনি গেটে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত আল্টিমেটামের মধ্যে রয়েছে, আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্মরত ১ হাজার ২০০ শ্রমিক ও কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা না হলে আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করা হবে। এতে খনি উত্পাদন ও উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হলে এর দায়দায়িত্ব খনি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
 
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, শ্রমিক নেতা জাকির হোসেন, এরশাদ আলী, রাহেনুল ইসলাম ও শাহিনুর রহমান প্রমুখ।
 
বড়পুকুরিয়া কলয়াখনি শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, খনি কর্তৃপক্ষের সাথে ২০১১ সালে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক দৈনিক ২৯৭ টাকা হারে হাজিরায় ভূগর্ভস্থ শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু একজন শ্রমিক মাসে ১৫ থেকে ২০ দিনের বেশি কাজ করলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে ১৫ থেকে ২০ দিনের হাজিরা দিয়েই ভূগর্ভস্থ শ্রমিকদের মানবেতরভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে এক মাস কাটাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদফায় খনি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করার পরও কর্তৃপক্ষ সুরাহা করেননি। খনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত একজন পিওন ঘরে বসে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই মাসে ১৫ থেকে ২০হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূগর্ভে কাজ করেও শ্রমিকদের তিন বেলা ভাত হচ্ছে না। এভাবে চলতে পারে না। এ কারণে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১ হাজার ২০০ শ্রমিককে আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে চাকরি স্থায়ী করা না হলে ১৪ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করবে এসব শ্রমিকরা। এরপরও দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে।
 
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম নূরুল আওরঙ্গজেব বলেন, আন্দোলনকারী শ্রমিক ও কর্মচারীরা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বিসিএমসিএল, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি, এক্সএমসিতে কর্মরত রয়েছেন। ২০১১সালের চুক্তি অনুযায়ী তাদের বেতনভাতা দেয়া হচ্ছে। আগামীতে যাতে শ্রমিকরা উপযুক্ত বেতনভাতা পায় সে বিষয়টি দেখবে কোম্পানি।
 
ইত্তেফাক

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top