সেবা ডেস্ক: জড় পাথরে যেন জীবন খুঁজছেন শিল্পী। আমাদের জীবনটাও তো তাই। অন্বেষণই তো জীবন। কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তো জীবন পার হয়ে যায় কিন্তু উত্তর মেলে না। কিন্তু তাতে জীবনের সেই অন্বেষণ থেমে যায় না। শিল্পের আশ্রয়ে প্রকৃতির নানা উপাদানের মধ্য থেকে জীবনকেই তো খুঁজি আমরা। এভাবেই ভাস্কর্য গড়তে গিয়ে যেন জীবনের মানে খুঁজে পান ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান। সেই জীবন অন্বেষণকেই খোলা সবুজ চত্বরে ছড়িয়ে দিয়েছেন দেশবরেণ্য এই ভাস্কর।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। খোলা মাঠে পাথর, মেটালের নানা ভাস্কর্য সাজানো। সম্ভবত বাংলাদেশে এই প্রথম উন্মুক্ত চত্বরে কোনো ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রকৃতি, জীবন, মাতৃত্ব, উদ্ভিদকুল, দেশজ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ এবং মানুষ উঠে এসেছে হামিদুজ্জামানের ‘জীবন অন্বেষণ’ শীর্ষক ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে।
হামিদুজ্জামান খানের হাতের স্পর্শে পাথরের খণ্ডে যেন প্রাণ সঞ্চারিত হয়। প্রকাশিত হয় অসীম প্রাণের ব্যঞ্জনায়। অবয়বের গুণে জড় বস্তুটি প্রাণসঞ্চারী হয়ে নজর কাড়ে শিল্পানুরাগীর। শিল্পের প্রায় সব শাখাতেই তার সমান গতিবিধি। ভাস্কর্যের ক্ষেত্রেও তিনি মেটাল কাস্টিং, মেটাল শিট, মেটাল পাইপে কাজ করেছেন। এখন স্টোন নিয়ে কাজ করছেন।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান স্থপতি শাহ আলম জহির উদ্দীন, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও স্থপতি ইকবাল হাবীব। প্রদর্শনীতে মোট ২৯টি ভাস্কর্য ও দুটি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সীমিত সাধ্যে সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। মেয়র আনিসুল হক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের প্রদর্শনী ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
রফিকুন নবী বলেন, হামিদুজ্জামান খান সব মিডিয়ায় সমান পারদর্শী। তার কাজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, যখন যে মিডিয়ায় কাজ করেন সেই মিডিয়ার রস ধরার চেষ্টা করেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিল্পী হামিদুজ্জামান খানকে নিয়ে শিমুল সালাহউদ্দিন নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীটি চলবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এটি।