
রৌমারী প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারী সীমান্তের ও ভারতের কালাইয়ের চর সীমান্তের বর্ডার হাটে বুধবার পুলিশের ধাক্কা খেয়ে বস্তার নিচে পড়ে ৩ সন্তানের জনক নুরন্নবী (৩০) রোববার রাতে মারা গেছে।
তার বাড়ি বালিয়ামারী বাজার পাড়া গ্রামে। সে উক্ত গ্রামের মরহুম ইমান আলীর কনিষ্ঠ পুত্র। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লে্েক্স ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করার জন্য রের্ফাড করে।
সেখান থেকে এমআরআই রিপোর্টে তার বুকের হাড়,গাড়ের হার, হাতের হাড়সহ ফসফুসের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা মেডিকেল আইসিইউতে সুযোগ না থাকায় তার আতœীয়-স্বজন ধানমন্ডি পুপুলার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি না করালে পুনরায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসে। পরে সেখান থেকে পান্থপথে সোস্যাল ইসলামি হাসপাতালে আইসিইউতে গত ৫ দিন তার চিকিৎসা চলে ।
উল্লেখ্য উক্ত বর্ডার হাটে মালামাল আদান প্রদান নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি ও পুলিশের মধ্যে প্রায়ই মতানৈক্য হয়ে থাকে। বিজিবি মালছাড় দিলে পুলিশ মনে করে বিজিবি ভাগ খেয়েছে। সে জন্য পুলিশ ও কাষ্টমের লোক তখন মালামাল ছাড় দিতে কঠোর নজরদারি করে। গত ১৪ নভেম্বর বুধবার এ রকম একটি ঘটনার জেড় ধরে, উক্ত ঘটনা ঘটে।
হাটে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা আজাহার ,খয়ের উদ্দিন,ফারুক মিয়া জানান, বেলা আনুমানিক ১টার দিকে বর্ডার হাট থেকে মালামাল পার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের গেইট খুলে দেওয়া হয়। তখন ক্রেতারা/লেবাররা মালামাল পার করে নিয়ে আসার জন্য হুড়াহুড়ি শুরু করে।
এ সময় রাজিবপুর থানা পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আবু বকর সিদ্দিক ও তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গেইটে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে প্রায় ৫০ জন ক্রেতা /লেবার মাথায় সুপারির বস্তা মাথায় নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দিতে লাঠি উঠায় এবং সামনে থাকা নুরন্নবীর মাথার বস্তা ধরে পিছনের দিকে ধাক্কা দিলে সবাই পিছনের দিকে অর্থাৎ বর্ডার হাটের দিকে ব্যাক করার চেষ্টা করে।
এ সময় উক্ত লেবারসহ কয়েক জন হুমরি খেয়ে পড়লে নুরন্নবী বস্তার নিচে পড়ে যায়। তার উপরে আরও কয়েক জনের মাথার বস্তা গড়ে যাওয়ার ঘাড়সহ শরীরের বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙ্গে যায়। ইউপি সদস্য ও উক্ত হাটের দোকানী বাবু মিয়া জানান,নুরন্নবী সহ ১৭জন আমার মালমাল লোড-আনলোড করে।ওই দিন হুরাহুরি মধ্যে বস্তার নিচে পড়লে আমি তাকে রাজিবপুর হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু তার অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তার ঢাকাতে পাঠায়।
এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই এ বি সিদ্দিক জানান, আমার ধাক্কায় নয় লেবাররাই হুড়াহুড়ি করলে লোকটি বস্তার নিচে পড়ে যায়। তবে বর্ডার হাটের অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার অভিযোগ বেশ কয়েক মাস থেকে উক্ত অফিসার একাধারে ডিউটি করায় কয়েক জন সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের মালামাল প্রথমে হাট থেকে বাহির করে দেয়। ফলে অন্যান্য ক্রেতারা সহজে মালামাল পার করতে পারে না।
বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্ব স্ব কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন এলাকাবাসি।
⇘সংবাদদাতা: রৌমারী প্রতিনিধি
⇘সংবাদদাতা: রৌমারী প্রতিনিধি

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।