
প্রশাসনের সামনেই বেপরোয়া ভাবে বিকট শব্দে বালুমাটি বোঝাই নিয়ে সাদা পাউডারের মত ধুলো উড়িয়ে এবং কাঁদা ছিটিয়ে ধাবিয়ে চলছে ট্রাক্টরগুলো। এ নিয়ে প্রশাসনের এখন আর নজরদারিতা নেই।
উপজেলার ব্রম্মপুত্র ও বিভিন্ন কৃষি জমি থেকে মাটি বোঝাই করে ট্রাক্টর দিয়ে বাড়ির ভিটা উচু করন ও ইট ভাটায় ব্যবহারের জন্য ডিসি সড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলোর উপর দিয়ে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করছে। বিশেষ করে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর ব্রম্মপুত্র নদের ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে বালুমাটি ট্রাক্টরে বোঝাই করে নিয়ে উপজেলা মোড় দিয়ে ও সংযোগকারী বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত শতাধিক ট্রাক্টর ব্রম্মপুত্র নদের বালু ও কৃষি জমি থেকে মাটি বোঝাই করে বিভিন্ন বাড়ির ভিটা উচু করন ও ইট ভাটায় যাচ্ছে। এর ফলে কাঁচা ও পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পীচঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তে সৃষ্টি হয়েছে।এই সড়ক দিয়ে কোমলমতি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে।
দিনের বেলার সূর্যের আলোয় পিচ্ছিল মাটি ট্রাক্টরের বড় চাকায় পিষ্ট হয়ে ধুলায় সৃষ্টি হয়ে সড়ক ও সড়কের আশপাশ এলাকা সাদা ধূলায় আচ্ছন্ন হয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে ঐ এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকীর মূখে পড়ছে। উপজেলার ব্রম্মপুত্র নদের ঘাটে যাওয়া ও দক্ষিন খঞ্জনমারা এলাকার দিয়ে গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে উপজেলা সদরের উপর দিয়ে ট্রাক্টরের বডি থেকে এক ফুট উচু করে খোলা অবস্থায় মাটি বোঝাই নিয়ে প্রতিদিন ১৫/২০টি ট্রাক্টর বিকট শব্দে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করছে। ফলে রৌমারী শাপলা চত্তর, উপজেলা চত্তর ও থানা মোড় স্থানে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
ট্রাক্টরের বেপরোয়া ভাবে চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে অটোরিক্সা, পিকআপ, অটো-টেম্পুকে অটোভ্যানসহ অন্যান্য ছোট ছোট যানবাহন। উপজেলার ডিসি সড়ক দাঁতভাঙ্গা রৌমারী, সংযোগ সড়ক পাখিউড়া টু চরশৌলমারী-রৌমারী সদর হয়ে গোয়ালগ্রাম- রৌমারী সদর বাজার, রৌমারী সদর বিজিবি ক্যাম্প-টু ইজলামারী ঘাট, কর্তিমারীসহ বিভিন্ন সড়কগুলো যন্ত্রদানবের দাপটে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এই সকল সড়ক দিয়ে ট্রাক্টর ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
রৌমারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম জীবন, মর্নিং সান কিন্ডার গার্ডেনের অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেন, রৌমারী সিজি জামান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা জানান, সূর্যের আলো থাকার পরও রাস্তায় আশপাশ এলাকায় কুয়াশার মতো ট্রাক্টরের সৃষ্ট ধুলোয় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আর ধুলোর মধ্যে দিয়ে চলাচল করায় সর্দি কাশি শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে আসা সকল শিক্ষার্থী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, রৌমারী থেকে জেলা সদর কুড়িগ্রাম, ঘাটে যাতায়াতের সড়কটি এখন ট্রাক্টরের দখলে। যাত্রীবাহী গাড়ী চালকরা এই সড়ক দিয়ে আসতে চায়না, ফলে ঝুঁকি নিয়ে ঘাটে যাতায়াতে চাকুরিজীবি মামলা মোকদ্দমার ও স্কুল পড়–য়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাঁদা ও ধুলায় সাদা হয়ে চলাচল করতে হয় এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের স্বীকার হচ্ছেন অনেকেই।
শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিল বলেন, ট্রাক্টরের বিষয় নিয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনেকবার আলোচনা করেছি কোন কাজ হয়নি। ইট ভাটা মালিকরা প্রতিবছর শুকনো মৌসুমের শুরুতেই ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহন করেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বাড়ি উচু করনের জন্যেও এই ট্রাক্টরের মাধ্যমে ডিসি সড়কসহ সংযোগকারী সড়ক গুলি ব্যবহার করেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, অতি দ্রুত একটা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
⇘সংবাদদাতা: রৌমারী প্রতিনিধি

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।