
রেজাউল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি: বেগম মিনুআরা মাহমুদ। স্বামী মৃত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। মাতা মৃত হাজেরা বেগম লুৎফা। তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পৌরশহরের খামারিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
তিনি “জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় জয়িতা হিসেবে মনোনিত হয়েছেন। সম্প্রতি তার সাথে একান্ত সাক্ষাতে ওঠে আসে সমাজ উন্নয়নে কতটুকু অবদান তিনি রেখেছেন তার কিছু কথা।
বেগম মিনুআরা মাহমুদ একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। ৬১ বছর বয়সের এই নারী একজন সমাজকর্মী। তিনি এইচএসসি পর্যন্ত পড়া লেখা করেছেন। অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে তার বিয়ে হয়।
বিয়ের পরও বন্ধ হয়নি তার লেখা পড়া। শিক্ষার প্রতি তিনি ছিলেন অটল। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার জন্যে স্বামীকে উৎসাহ দেন। এরই প্রেক্ষিতে তার স্বামী বানিবাইদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি উপজেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।
সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে আনতে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা” নাশিকস)।
এ সমিতির মাধ্যমে ৪৬৬ জনকে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, যৌতুক রোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ ও মানব পাচারের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাদের মধ্যে সচেতনতাবোধ তৈরি করতে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন। বর্তমানে ৪ জন নারী নিয়ে বিনামূল্যে বেকার নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ করাচ্ছেন। এমনকি তাদের মাধ্যমে পোশাক উৎপাদন ও বিক্রয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন।
এছাড়াও সামাজিক কুসংস্কার থেকে মেয়েদের পড়া লেখাসহ নানাভাবে সহায়তা করে নিজেকে সমাজ উন্নয়নে নারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এ জন্য তাকে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ ২০১৮” কার্যক্রমের আওতায় সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখেছে যে নারী ক্যাটাগারিতে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।