
রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মশাবাহিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ নামে নতুন ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগে কমপক্ষে ২ হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৪টি গরু মরার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে কৃষান-কৃষানী ও গরু পালনকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমি দেখা যায়, লাম্পি স্কিন ডিজিজ-এ আক্রান্ত গরুগুলোর পা ফুলে গেছে, সারা শরীরে বসন্তের মতো গুটিগুটি ফোঁসকা হয়েছে। পায়ের খুরায় ক্ষত দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে না। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছে। খাওয়ায় আগ্রহ নেই। ফলে গরুর মালিকরা আতঙ্কে আছেন। এ রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করবে বুঝতে পারছেন না তারা।
গরু পালনকারীদের অনেকেই রোগটিকে গুটি বসন্ত ও অজানা রোগ বলে অভিহিত করছে। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, এটি গুটি বসন্ত বা অজানা কোনো রোগ নয়। এই রোগটি ভাইরাসজনিত। রোগটির নাম লাম্পি স্কিন ডিজিজ (ষঁসঢ়ু ংশরহ ফরংবধংবং- এলএসডি)। গত এক মাস ধরে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে হালের বলদ, দুধের গাভী, সদ্যোজাত বাছুরও রয়েছে। বর্তমানে ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। তবে প্রাণী সম্পদ কার্যালয় থেকে মাত্র ৮৪টি গরু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার চকমেহেদী গ্রামের মওলা বক্সের ২টি, বাঁশপাতা গ্রামের জহির রায়হানের ১টি ও পারধুনট গ্রামের নায়েব আলীর ১টি গরু মারা গেছে। তবে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন এ গরু গুলো লাম্পি স্কিন ডিজিজ-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি। এই চারটি গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
উপজেলার অলোয়া গ্রামের আলতাব হোসেন জানান, প্রথম দিকে আক্রান্ত গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে উঠছে। এরপর ওই ফোলা স্থানের মাংস পচে যাচ্ছে এবং সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া আক্রান্ত গরুর পা ফুলে উঠছে। এতে গরু উঠে দাঁড়াতেও পারছে না।
একই এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক, মজনু মিয়া ও আয়নাল হক জানান, এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই তারা তাদের গরুর গায়ে ছোট ছোট ফোলা দেখতে পান। প্রথম দিকে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। এর দুই-এক দিন পর দেখতে পান ওই ফোলা স্থান থেকে মাংস পড়ে গেছে এবং সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানোর পর বর্তমানে আক্রান্ত গরু কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠছে।
চকমেহেদী গ্রামের মওলা বকস জানান, আক্রান্ত গাভীর প্রথমে পা ফুলে যায়। এরপর জ্বর হয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে গোটা শরীরে বসন্তের মতো ফোঁসকা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে ঘায়ে পরিণত হয়। পরে আক্রান্ত গাভি মারা গেছে। ওই গাভীর বাচ্চাটিও একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এবারই প্রথম লাম্পি স্কিন ডিজিজ নামে ভাইরাসজনিত রোগের প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগের কোন প্রতিশেধক নেই। তবে মৃত্যুঝুঁকি না থাকলেও গরুর অনেক ক্ষতি হয়। অন্য গরু থেকে আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখতে হবে। মশার মাধ্যমে ছড়ানোর কারণে অবশ্যই রোগাক্রান্ত গরুকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। সুস্থ গরুও মশারির মধ্যে রাখলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। রোগের উপসর্গ দেখে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।