যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: ফিরে দেখা ১৯৭২

S M Ashraful Azom
0
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: ফিরে দেখা ১৯৭২

সেবা ডেস্ক: ১৯৭২ সালের জুন মাসের শেষের দিকে প্রায় দেড় শত জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারত থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আনা হবে বলে জানা গেছে। এই যুদ্ধাপরাধীদের বেশিরভাগ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদমর্যাদার অধিকারী। ওই বছরের ১৪ জুনের দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের কুর্মিটোলার ক্যান্টনমেন্টে রাখা হবে।

এর আগে ১৯৭২ সালের ১২ এপ্রিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রসিকিউশন টিম চূড়ান্ত করা হয়। প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান আর এস পল এবং সিরাজুল হক। এছাড়া, ছিলেন আইনজীবী ওয়াদুদ ভূইয়া ও মাহমুদুল ইসলাম।

১৯৭২ সালের ১৪ জুনের দৈনিক পূর্বদেশবঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে উদ্যোগ নেন এবং আন্তর্জাতিক কাঠামো অনুসারে সংগঠন তৈরির কাজও শুরু করেন। একইসঙ্গে দেশের নিজস্ব ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির ঘোষণাও ছিল।
Bangabandhu's dream is to be realized through the trial of war criminals

ওই বছরের ২৪ জানুয়ারির দৈনিক বাংলায় প্রধান খবর ছিল— ‘প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করা হচ্ছে: ন্যায্যবিচার ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে না, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দালালদের বিচার।’ দালালদের বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার ঘোষণা দেওয়া হয় এ মাসেই।

১৯৭২ সালের ১৪ জুনে এসে পূর্বদেশের সংবাদ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদ সমাপ্ত হলে আগামী আগস্টের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো ও মানবতাবিরোধী কাজের অভিযোগ তদন্তে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি  যুদ্ধাপরাধীদের একটি তালিকা নিরূপণ করে সরকারের কাছে পেশ করে। কমিটি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেড়শ’ যুদ্ধাপরাধীকে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানায় বলে সংবাদে দাবি করা হয়। পূর্বদেশে প্রকাশিত সংবাদে আরও  বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আইন ও পার্লামেন্ট বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী কামাল হোসেন নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে যুদ্ধাপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশে তাদেরকে  বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ জানানোর কথা। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রণয়ন করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তালিকায় কিছু রদবদল হতে পারে। প্রসঙ্গত, আগে থেকেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা ছিল যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ভারত সরকার যেকোনও সময় তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেরত দিতে প্রস্তুত।

Bangabandhu's dream is to be realized through the trial of war criminals

ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য কঠোর হতে হবে
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘যারা বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায় তারা দেশের শত্রু, তারা জনগণের শত্রু। তারা বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করে আমাদের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চায়। যারা বাঙালি জাতির দুর্দিনে পাশে থাকা বন্ধুদের সম্পর্কে কুৎসা রটনা করে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’

এ দিনেই (১৩ জুন) দৈনিক পূর্বদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা এখনও বিপদমুক্ত নয়। পাকিস্তান এখনও বাংলাদেশকে শাসনের স্বপ্ন দেখছে। চীনসহ কতগুলো মুসলিম রাষ্ট্র এখনও আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে পারেনি। দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে এখনও মার্কিন সপ্তম নৌবহর রয়েছে। তাই এসব হুমকি মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়ার মতো রাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতা আমাদের দরকার।’ গণতন্ত্র অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দেশের স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর মনোভাব গ্রহণ করা উচিত।’ দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা সংশোধন করে আরও কঠিন করার জন্য তিনি আহ্বান জানান

তিনি আশা করেন, পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন ও দুর্নীতি পরায়নদের চিহ্নিত করতে খুব শিগগিরই স্ক্রিনিং বোর্ড গঠন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কিছু কিছু গণপরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি পরায়ণ এসব সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভিডিও নিউজ


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top