
সেবা ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসে নিরাশার মধ্যে এবার আশার খবর হলো হঠাৎই বাংলাদেশে সুস্থতার হার বেড়ে যাওয়া। এতদিন সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকহারে বাড়লেও সুস্থতার হার ছিল অনেক নিচে। সোমবার একদিনে এই রোগ থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি সুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইডিসিআর।
তাদের পক্ষ থেকে গত রবিবার মোট সুস্থতার সংখ্যা বলা হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩০। কিন্তু সোমবার বলা হয়েছে সংক্রমণ শুরুর পর থেকে মোট ৩৪,০২৭ জন হয়েছেন। আগের দিনের মোট সুস্থতার সংখ্যার সঙ্গে সোমবার একদিনে ১৫,২৯৭ বেশি যোগ হয়েছেন। আইডিসিআরের ব্রিফিংয়ে বলা হয়, যারা বাসায় থেকে সুস্থ হয়েছেন, তাদের সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে। তাই এটি অনেক বেড়ে গেছে।
তাদের হিসাব অনুযায়ী গত প্রায় তিন মাসে শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ছিল ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। একদিনের ব্যবধানে ২১ শতাংশ থেকে সুস্থতার হার প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে!
করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানা বলেন, শনাক্তের বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত দিনের চেয়ে আমরা সোমবার সুস্থতা অনেক বেশি বলছি। কারণ যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে শুধু হাসপাতালের সুস্থতা নয়। বাসায় এবং যারা উপসর্গবিহীন ছিলেন, সবাই এটার মধ্যে যোগ হয়েছেন। এই তথ্য আমাদের আইইডিসিআর সরবরাহ করেছে।’
গত ২০ এপ্রিলের পর থেকে দেশে করোনা সংক্রমণের হার উপর দিকে উঠতে থাকে। দৈনিক সংক্রমণের হার বাড়তে বাড়তে এখন ৩ হাজার পেরিয়েছে। যদিও আগের চেয়ে পরীক্ষার হারও বেড়েছে। তবে এতদিন সংক্রমণের হার বাড়লেও সুস্থতার হার ছিল অনেক কম। কিন্তু সোমবার সুস্থতার হার লাফেই ডবল হয়েছে।
আইডিসিআরের হিসাব অনুযায়ী গত ২০ এপ্রিলে একদিনে আক্রান্তের হার ছিল ৪৯২ জনে। মের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮শ’ কাছাকাছি। জুনের মাঝামাঝি এই তিন হাজারে পৌঁছেছে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে নোভেল করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
আইডিসিআরের হিসাব অনুযায়ী সারাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্তের বেশি রাজধানী ঢাকায়। ঢাকায় দিন দিন সংক্রমণ বাড়ছে। দেশে মোট করোনা শনাক্ত রোগীদের ৫৬ শতাংশ ঢাকার। আর এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে রাজধানীর সব এলাকায়। ইতোমধ্যে রাজধানীর ৪৫ এলাকাকে অধিক সংক্রমিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে রেডজোন করা হয়েছে। এসব জোনে বসবাসকারীদের এলাকার বাইরে বের হওয়া নিষেধ করা হচ্ছে। এসব এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া করোনা সংক্রমিত রেড জোন এলাকায় মুসলমানদের নামাজসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা ঘরে বসেই করতে বলা হয়েছে। এসব এলাকার মসজিদে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া অন্য মুসল্লিকে নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জুমার জামায়াতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।