
রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া): করোনাভাইরাসের কারণে সরকার জুন মাস পর্যন্ত সব এনজিওর কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সেই নির্দেশনা অমান্য করে কিস্তি আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এমনকি কিস্তি আদায়ের জন্য গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকা ও হুমকি প্রদানের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এদিকে আয় উপার্জন ও ব্যবসা না থাকায় কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না ঋণ গ্রহীতারা।
জানা গেছে, করোনা প্রাদুর্ভাবে লোকজন চলাচল সীমিত করে দেয়া হয়েছে। ফলে নি¤œ আয়ের মানুষদের কর্মসংস্থান কমে গেছে। এতে দিনমজুর-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতেও চলছে এনজিওর ঋণ আদায় কার্যক্রম। এতে এনজিওর ঋণ গ্রহণকারী দরিদ্র মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। তারপরও এনজিওকর্মীরা বাড়িতে এসে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ কারণে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক ঋণগ্রহীতারা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিন উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আশা এনজিওর এক কর্মকর্তা কিস্তির টাকা আদায় করছেন। তিনি জানান, আশা এনজিওর সিরাজগঞ্জের কাজিপুর শাখার অধীনে ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন জনপদের কমপক্ষে ৬০টি বাস্তুহারা পরিবারের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে তাদের নিকট থেকে কিস্তির টাকা আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলার ভুতবাড়ি গ্রামের জরিনা খাতুন জানান,আশা নামে একটি এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে কাঠের আসবাবপত্র তৈরীর ব্যবসা করেছিলাম। কিন্ত করোনার কারণে এখন বেচাকেনা নেই। তারপরও সাপ্তাহিক ৩ হাজার টাকার কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে, বাড়িতে পর্যন্ত আসছেন এনজিওর কর্মকর্তারা।
নিউসারিয়াকান্দি গ্রামের মোমতা খাতুন জানান, আশা এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা লোন নিয়ে স্বামীকে মাছ ব্যবসা করতে দিয়েছি। করোনা দূর্যোগে এখন ব্যবসার অবস্থা ভাল না। তারপরও সপ্তাহে ২ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে চাপ দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে আশা এনজিওর কাজিপুর শাখার জুনিয়র লোন অফিসার নুর মোহাম্মাদ জানান, আমরা আমাদের গ্রাহকদের বাড়িতে যাচ্ছি, তাদের সঙ্গে দেখা করে ভালো মন্দ খোঁজ খবর নিচ্ছি, এরপরে তাদের কিস্তি পরিশোধের জন্য বলছি। যদি কেউ কিস্তি দিতে রাজি বা আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তারটা নেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ যদি অপারগতা প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে তার কিস্তি নেওয়া হচ্ছে না বা চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে না।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা জানান, চলতি জুন মাস পর্যন্ত কোন ঋণ গ্রহীতাকে কিস্তি প্রদানে বাধ্য করা যাবে না। তবে কোন গ্রাহক স্বেচ্ছায় ঋণের কিস্তি প্রদানে ইচ্ছুক হলে, সেক্ষেত্রে কিস্তির টাকা গ্রহন করা যাবে। তথাপি কোন এনজিও গ্রাহকের নিকট থেকে ঋণের কিস্তি আদায়কালে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।