
সেবা ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার একটি ইটভাটার ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে আশেপাশের প্রায় ২০ একর জমির ধান বিনষ্ট হয়ে গেছে। এতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে ভাটা মালিক বিল্লাল হোসেন ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে তাঁকে ভাটায় পাননি বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, মীর দেওহটা গ্রামের দক্ষিন-পূর্ব এলাকায় কৃষি জমিতে গত কয়েক বছরে অন্তত ১০টি ইটের ভাটা গড়ে উঠে। ভাটাগুলো স্থাপনের পর থেকে ধোঁয়ার কারণে এলাকায় ফসলের উৎপাদন কমে গেছে। গাছে ফলও আগের মতো পাওয়া যায় না। ওই গ্রামের খোরশেদ আলম বলেন, ভাটাগুলো স্থাপনের পর থেকে এলাকায় ফসল হয় না। সবজি নষ্ট হয়। গত বছরও ভাটার গ্যাসের কারণে ধানের আবাদে ক্ষতি হয়েছিল। এবার প্রায় ২০ দিন আগে থেকে ইট ভাটাগুলো বন্ধ হতে থাকে। অন্য ভাটাগুলো বন্ধের জন্য গ্যাস ছাড়ায় কোন ক্ষতি না হলেও প্রায় ১৫ দিন আগে বিল্লাল হোসেনের ইট ভাটার গ্যাস ছাড়ায় ধানগুলো পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
গ্রামটির বাসিন্দাদের মধ্যে কামরুল হাসান ৭০ শতাংশ জমিতে ধানা বুনেছিলেন। তিনি এবার ১০ মন ধান পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছেন। আব্দুল বাতেন মোল্লা ২৮ শতাংশ জমিতে ধান বুনেছিলেনে। তাঁর খেতের ধানও নষ্ট হয়েছে। তিনি এর বিচার দাবি করেন। গ্রামটির কৃষানীরা জানান, গত বছরও একই অবস্থা হয়েছিল। এবার বিল্লাল হোসেনের ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ধান পুড়ে গেছে। গ্রামটির কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ভাটার মালিক বিল্লাল হোসেন খুবই প্রভাবশালী। তিনি মির্জাপুর উপজেলা সদরের একটি গ্রামের বাসিন্দা। এজন্য গ্রামবাসী তাঁর ভয়ে মুখ খুলতে চাননা। এর আগে তাঁর ইটের ভাটার চারদিকে সাটিয়ে দেয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এক ব্যাক্তি মারা যান। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সে ঘটনায় তাঁর কিছুই হয়নি।
এ ব্যাপারে বিল্লাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, তাঁর ভাটার গ্যাসে ধানের কোন ক্ষতি হয়নি। গত বছর কিছু ক্ষতি হওয়ায় সবগুলোর ভাটার মালিক ক্ষতিগ্রস্ততের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। এবারও ক্ষতিগ্রস্তদের কিছু টাকা দেয়ার জন্য সব ভাটার মালিকেরা আলোচনা করে চলছেন। এর আগে ২০১৮ সালে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত ব্যাক্তিটির পরিবারের সঙ্গে মিমাংসা করা হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষনিক তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারি কর্মকর্তাকে ক্ষতির পরিমান নিরূপন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।