
শফিকুল ইসলাম: দাঁতভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ৪ সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন স্থানীয় প্রশাসন। এঘটনায় রবিবার বিকালের দিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ের কিছু ঢেউ টিন চুরি করে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এমন খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে স্থানীয় চারজন সাংবাদিক দৈনিক শিক্ষা ও দৈনিক জনতার উপজেলা প্রতিনিধি সাখওয়াত হোসেন সাখা, দৈনিক ভোরের কাগজের প্রতিনিধি ও এসএন টিভির রৌমারী প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ রুবেল, দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিনিধি লিমন আহমেদ ও নাহিদ হাসান চুরি হওয়া টিনের ছবি তুলতে গেলে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত হন। প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং ভাতিজা ওই চার সাংবাদিকদের অবরোদ্ধ করে রাখেন।এসময় সাংবাদিকরা রৌমারী ইউএনও আল ইমরান কে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে ইউএনও রৌমারী সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. গোলাম ফেরদৌস ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মোক্তার হোসেনসহ রৌমারী থানা পুলিশকে পাঠান। তারা ওই গ্রামের লোকজন ও স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি আমির হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান ও ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানসহ আরো অনেই ওই ঘটনাস্থল থেকে চার সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন।
আটককৃত চার সাংবাদিক লাঞ্চিতের বিষয় জানতে চাইলে দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিুযক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘সাংবাদিকদের আমি লাঞ্চিত করিনি। তবে স্কুলের টিন চুরির অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে সঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, রেজুলেশন আকারে টিন ক্রয় করে নিজ বাড়িতে আনা হয়েছে।
অপর দিকে সাংবাদিকদের সাথে লাঞ্চিতের ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. গোলাম ফেরদৌস জানান, ‘প্রধান শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের সাথে যে খারাপ আচরণ করেছে তা মোটও ঠিক হয়নি। তিনি আরো বলেন, কারণ সাংবাদিকরা প্রতিটি ঘটনার সত্য উৎঘাটন করে করেন। বিষয়টি তদন্ত কওে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এব্যাপারে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মোহাম্মাদ দিলওয়ার হাসান ইনাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।