
রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া): বিয়ের প্রলোভনে মেহেদী হাসানের ধর্ষণের শিকার হন বন্যা খাতুন। এরপর অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েন। বিয়ের চাপ দিলে নিরুদ্দেশ হন মেহেদী। এরই মধ্যে কন্যা সন্তান জন্ম দেন বন্যা। সন্তান ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে আইণের দ্বারস্থ হন। তিন মাস পর সন্তানসহ স্ত্রীর স্বীকৃতি দেন মেহেদী। এ ঘটনাটি বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামে।
বুধবার সকালের দিকে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজাহার আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, থানায় মামলার পর এক লাখ এক টাকা মোহরানায় রেজিষ্ট্রী (কাবিন) মুলে বন্যা ও মেহেদী বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এরপর সন্তান নিয়ে নবদম্পতি সুখের সংসার গড়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের দিনমজুর নায়েব আলীর মেয়ে বন্যা খাতুন (১৬)। তাকে বিয়ে করবে বলে প্রেমের প্রস্তাব দেন প্রতিবেশী ফজলুল বারীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৮)। কিন্ত মেহেদীর প্রেমে সাড়া দেননি বন্যা। গত ২০১৯ সালের ১৫মে রাত সাড়ে ১০টায় বন্যা নিজের ঘরে শুয়ে পড়েন। এসময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না। এ সুযোগে মেহেদী হাসান ঘরে প্রবেশ করে বন্যাকে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের শিকার বন্যা অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েন। তখন মেহেদীকে বিয়ের চাপ দেন। অবস্থা বেগতিক ভেবে মেহেদী হাসান বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন। এ অবস্থায় বন্যার শারীরিক পরিবর্তন হতে থাকে। এক পর্যায়ে ১৯ ফেব্রুয়ারী নিজ বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন বন্যা। নবজাতকের নাম রাখেন মেঘলা। সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্ত্রীর মর্যাদা পেতে মেহেদীর বাবার নিকট যান বন্যা। কিন্ত তার স্বীকৃতি মেলেনি।
অবশেষে সন্তানসহ স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে ২৪ফেব্রুয়ারী থানার মামলা দায়ের করেন বন্যা। ওই মামলায় মেহেদী ও তার বাবা ফজলুল বারী এবং নিমগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলীকে আসামী করা হয়। পুলিশ আজাহার আলীকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠান। ইউপি চেয়ারম্যান জামিনে মুক্ত হয়ে এক সপ্তাহ আগে বন্যা খাতুন ও মেহেদী হাসানের বিয়ে সম্পন্ন করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার বর্মন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এই মামলার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে আদালত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।#

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।