
সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২০ পালন করছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- “নিরাপদ খাদ্যের উন্নয়নে এ্যাক্রেডিটেশন” ‘Accreditation: Improving food safety’।
বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২০ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বাণী প্রদান করেছেন।
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড জাতীয় মান অবকাঠামো ও সাযুজ্য নিরুপণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য ও সেবার মনোন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক মান ও গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।
এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্ভরযোগ্য এ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএবি এ্যাক্রেডিটেশন সেবার মাধ্যমে জাতীয় মান অবকাঠামো (National Quality Infrastructure) ও সাযুজ্য নিরূপণ পদ্ধতি (Conformity Assessmen System) প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় সহযোগিতা এবং দেশীয় পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানী বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০০৬ অনুসারে বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড গঠিত হয়।
বিএবি আন্তর্জাতিক মান এবং গাইডলাইন অনুসারে বিভিন্ন পরীক্ষাগার, সনদপ্রদানকারী সংস্থা, পরিদর্শন সংস্থা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে এ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করে। দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী পণ্য ও সেবার গুণগত মানের স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানী বাণিজ্য সম্প্রসারনের লক্ষ্যে এ বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দক্ষতার সাথে পারস্পরিক/বহুমাত্রিক স্বীকৃতি বজায় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এ্যাক্রেডিটেশন সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ভোক্তা আস্থা বৃদ্ধি ও জনস্বাথ রক্ষায় বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর খাদ্যবাহিত রোগে সারা বিশ্বে প্রায় ৪,২০,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করে, যার ৩০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
তাই জাতিসংঘ খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-২০৩০’ এর ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৮, ৯ এবং ১১ নং অভীষ্টে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
খাদ্য উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে গুণগতভাবে নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করা একটি দূরহ ব্যাপার, যা বিচ্ছিন্নভাবে কারও পক্ষে একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে এসে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতার বিনিময় এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ঘটিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) জাতীয় মান অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে (Quality Infrastructure) সাযুজ্য নিরূপণ পদ্ধতি (Conformity Assessment System) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন, ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ তথা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিএবি ২০১২ সালে প্রথম অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করে এবং এখন পর্যন্ত দেশীয়, আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক মিলে মোট ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করেছে। বিএবি’র অ্যাক্রেডিটেশনের ফলে দেশের বিভিন্ন সেবার মান পরীক্ষণ, পরিদর্শন ও সার্টিফিকেশনসহ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারসহ রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।বিএবি এ জন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ, বাজারজাতকরণ, ভোক্তা পযর্ন্ত প্রতিটি স্তরে খাদ্যের গুণগতমান, নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগী হতে হবে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।