হদিস নেই ৩ কোটি টাকার মেশিনের: ১০০০ কোটি টাকার অচল প্রযুক্তিতে আটকা ইভিএম প্রকল্প
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার বিশাল এক ইভিএম (EVM) প্রকল্প। প্রতিটি মেশিন প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দরে কেনা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
কিন্তু বিশাল অংকের এই বিনিয়োগ এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—১,৫৯৯টি ইভিএম মেশিনের কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান বাজার মূল্যে হারিয়ে যাওয়া এই মেশিনগুলোর আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৭ কোটি টাকা।
অচল প্রযুক্তি ও সংরক্ষণের অভাব:
শুধুমাত্র হারিয়ে যাওয়াই নয়, মজুত থাকা মেশিনগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। কারিগরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি তিনটি মেশিনের মধ্যে একটি বর্তমানে ত্রুটিপূর্ণ। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়েছে ব্যাটারি, অকেজো হয়ে পড়েছে সার্কিট। ফলে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার প্রযুক্তিগত কাঠামো এখন কার্যত আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে যন্ত্রাংশ সংগ্রহের যে অভিযোগ শুরু থেকে ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে আরও জোরালো করেছে।
স্বচ্ছতার ঘাটতি ও ভিভিপ্যাড বিতর্ক:
প্রযুক্তিগতভাবে এই ইভিএমের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল 'ভিভিপ্যাড' (VVPAT) বা পেপার ট্রেইল না থাকা। অর্থাৎ, একজন ভোটার ভোট দেওয়ার পর তার স্বপক্ষে কোনো কাগজভিত্তিক প্রমাণ পেতেন না। পুনর্গণনার সুযোগ না থাকায় ভোটটি সঠিক স্থানে জমা হলো কি না, তা যাচাই করার কোনো পথ ছিল না। এছাড়া পোলিং কর্মকর্তাদের হাতে বিশেষ পরিস্থিতিতে ২৫% পর্যন্ত ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মূল্যায়ন বনাম বাস্তবতা:
এক সময় জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এই প্রযুক্তিকে নির্ভরযোগ্য বলে সনদ দিলেও বর্তমানের মাঠ পর্যায়ের চিত্র সেই মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রযুক্তির আড়ালে যদি সত্য লুকানো থাকে, তবে সেই সত্য উদঘাটন করা এখন সময়ের দাবি। ৩,৮২৫ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্প কি সত্যিই জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ছিল, নাকি এটি ছিল কেবল অর্থ লোপাটের একটি সুপরিকল্পিত মাধ্যম—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশজুড়ে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।