সেবা ডেস্ক: ইরানের মিনাবে ১৬০ স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় নতুন ভিডিও প্রকাশ। মার্কিন টমাহক মিসাইলের প্রমাণ মেলায় ট্রাম্পের দাবি প্রশ্নের মুখে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব এলাকায় একটি প্রাইমারি স্কুলে ভয়ংকর হামলায় ১৬০ জনের বেশি স্কুলছাত্রীর প্রাণহানির ঘটনায় একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
নতুন করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ঘটনার দিন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাগোয়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির একটি নৌঘাঁটিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিমান থেকে আক্রমণ করেছিল।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজের প্রকাশ করা ওই ভিডিওচিত্রে প্রথমবারের মতো ওই অঞ্চলে মিসাইল হামলার সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ইরানকে দোষারোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা এখন প্রবল প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।
নিকটবর্তী একটি নির্মাণাধীন স্থাপনা থেকে ভিডিওটি রেকর্ড করা হয়, যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে যে আইআরজিসি ঘাঁটির একটি বিল্ডিংয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মিসাইল আঘাত করছে। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন যে, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া মিসাইলের গঠন এবং ডানার ধরন পুরোপুরি মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহার করা টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইলের মতো। সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে এই ধরনের কোনো টমাহক মিসাইল মজুত নেই, কারণ এগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ অথবা সাবমেরিন থেকেই ছোড়া সম্ভব।
ফুটেজে আরও দৃশ্যমান হয় যে, ঘাঁটিতে মিসাইলটি বিস্ফোরিত হওয়ার ঠিক পরেই ক্যামেরাটি ডানদিকে ঘোরানো হলে শাজারেহ তাইয়্যেবা নামের ওই বিদ্যালয়ের দিক থেকে আকাশছোঁয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। ওই মুহূর্তে প্রাণভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত সাধারণ জনগণকে দিগ্বিদিক ছুটে নিরাপদ স্থানে পালানোর চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।
সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিসাইলটি মূলত ওই ঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত আইআরজিসির একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের অত্যন্ত কাছাকাছি জায়গায় বিস্ফোরিত হয়। যদিও প্রকাশিত ফুটেজে সরাসরি স্কুলের ওপর হামলার দৃশ্যটি ধরা পড়েনি, তবুও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নৌঘাঁটিতে হামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ একই সামরিক অভিযানেরই দুটি ভিন্ন দিক হতে পারে।
এর আগেও সিএনএনসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির গণমাধ্যম তাদের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জানিয়েছিল যে, এই প্রাণঘাতী হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশসীমায় নিজেদের সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই সাধারণত টমাহক মিসাইলের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এই হামলার প্রকৃত দায় কার, তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুলের ভেতর থেকে মিসাইলের টুকরো সংগ্রহ করে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ রবিবার ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রশাসন এখনো এই হামলার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
বিশ্ব- নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।