![]() |
| জামালপুরে অব্যবস্থাপনায় ম্লান বর্ষবরণ: দুই সংগঠনের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ |
অগোছালো মঞ্চ ও সমন্বয়হীনতা: আনন্দ ছাপিয়ে ক্ষোভের সুর জামালপুর শিল্পকলায়
পহেলা বৈশাখের সকালে জামালপুর শহরের বকুলতলা থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের বর্ষবরণ শুরু হলেও পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নেমে আসে বিশৃঙ্খলা। জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদীচী, নবাঙ্কুর, লালন একাডেমীসহ ৮টি প্রতিভাবান সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত অব্যবস্থাপনার কারণে অনুষ্ঠান বর্জন করে ফিরে গেছে নবাঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠন ও জামালপুর লালন একাডেমী।
নবাঙ্কুরের ক্ষোভ:
সকাল থেকে কড়া রোদে বসে থেকেও পরিবেশনের সুযোগ পায়নি নবাঙ্কুরের শিশু শিল্পীরা। সংগঠনের সভাপতি রফিকুজ্জামান মল্লিক অভিযোগ করেন, "শিশুদের অগ্রাধিকার না দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। কখন আমাদের পালা আসবে, তা জানতে চাইলে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোষ কোনো সদুত্তর দেননি এবং তালিকা দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান। নিরুপায় হয়ে আমরা অনুষ্ঠান ত্যাগ করেছি।"
লালন একাডেমীর বর্জন ও বাদ্যযন্ত্রীদের প্রস্থান:
সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটে দুপুরে জোহরের আজানের বিরতির সময়। বর্ণালী সংগঠনের পরিবেশনা শেষে হঠাৎ করেই বাদ্যযন্ত্র যন্ত্রীরা তাদের সরঞ্জাম গুছিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন। এরপর যন্ত্রশিল্পী ছাড়াই মঞ্চে ডাকা হয় ধ্রুবতারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ও জামালপুর লালন একাডেমীকে। যন্ত্রশিল্পী এবং পর্যাপ্ত দর্শক না থাকায় ক্ষোভে অনুষ্ঠান বর্জন করেন লালন একাডেমীর শিল্পীরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন একে চরম অপমানজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেন।
সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য:
সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা কারো সাথে পরামর্শ না করেই নিজের ইচ্ছামতো তালিকা তৈরি করেছেন এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই যন্ত্রশিল্পীদের চলে যাওয়া সংশ্লিষ্টদের চরম ব্যর্থতা।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোষ বলেন, "আমি সবার সাথে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনুষ্ঠানে সবাই আগে পারফর্ম করতে চায়, যা সম্ভব নয়। দুটি সংগঠন রাগ করে চলে গেছে এবং যন্ত্রশিল্পীদের অন্য জায়গায় প্রোগ্রাম থাকায় তারা চলে গেছে। এখানে আমার কিছু করার ছিল না।"
একদিকে যখন জেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি কার্ড নিয়ে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এমন বিশৃঙ্খলা জামালপুরের সচেতন মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।