ঢাকায় তিন বছরের বেশি থাকা ডাক্তারদের যেতে হবে বাইরে তালিকা তৈরির নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

S M Ashraful Azom
রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পদ আগলে বসে রয়েছেন চিকিত্সকরা। যে কোন মূল্যে তারা তাদের বদলি ঠেকিয়ে রাখছেন। এমন অনেক চিকিত্সক আছেন, যারা বদলির ভয়ে পদোন্নতিও নিতে চান না। অবশ্য সপ্তাহের তিন দিনই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা থাকেন না ঢাকায়। বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনিবার বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ‘খ্যাপ’ মারতে যান তারা। 
 
এসব চিকিত্সকদের বেশিরভাগই সুবিধাবাদী। ঢাকায় পদ আগলে রাখতে তারা এমন কোন কাজ নেই করেন না। এদের  কেও কেও যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের হয়ে যায়। আরেক শ্রেণির চিকিত্সক আছেন যারা দলীয় আর্শীবাদপুষ্ট। তাদের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় ভালো পোস্টিং নিয়ে বসে আছেন। 
 
বিশেষ সুবিধাভোগী এসব চিকিত্সকদের ঢাকা থেকে মফস্বলে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এমন আভাস দেন।  তিনি বলেন, যেসব চিকিত্সক ঢাকায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে আছেন, তাদেরকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হবে। বিএমএ নেতাদের বলছি, আপনারা অনৈতিক কোন রিকোয়েস্ট নিয়ে আসবেন না। পারলে আমাদের সহায়তা করুন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে থাকা চিকিত্সকদের একটি তালিকা তৈরি করারও নির্দেশ দেন।
 
জানা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের জন্য ১৭ শ’ বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে রোগী থাকে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজারের মতো। আউটডোরে আসে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার রোগী। একই চিত্র রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের।
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে সবসময়। করিডোরেও রোগীরা চিকিত্সা নেন। কমিউনিটি ক্লিনিক, সাব সেন্টার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকা সত্ত্বেও মানুষ মফস্বল থেকে সাধারণ রোগের জন্যও ঢাকায় আসেন। তবে মফস্বলে ভালো চিকিত্সক থাকলে মানুষ সামান্য রোগে ঢাকামুখী হতো না।
 
মফস্বলে ভালো স্বাস্থ্যসেবা থাকলেও চিকিত্সকরা কমিশনের বিনিময়ে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন। মফস্বলের কোথাও কোথাও ভালো যন্ত্র নেই। থাকলেও বেশিরভাগ সময় সেগুলো বাক্সবন্দি থাকে যন্ত্রপাতি। নষ্ট যন্ত্র ঠিক করা যায় না। নেই দক্ষ টেকনিশিয়ান। এছাড়া অহেতুক যন্ত্র কিনে নষ্ট করা হচ্ছে পয়সা । বেশিরভাগ হাসপাতালের যন্ত্র খোলাও হয় না। পরে থাকে প্যাকেটে।
 
মফস্বলে অপারেশনের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। দেখা যায়, কোথাও সার্জন আছে অজ্ঞানকারী চিকিত্সক নেই। আবার কোথাও অজ্ঞানকারী চিকিত্সক আছে সার্জন নেই। এসব জটিলতার কারণে অপারেশন বাধাগ্রস্ত হয়। জেলা সদরেও একই অবস্থা। জেলা শহরে চিকিত্সার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ হাসপাতালে আইসিইউ নেই। অথচ আইসিইউর কোন বিকল্প নেই। যদিও বর্তমান সরকার আইসিইউর ব্যবস্থা করছে পর্যায়ক্রমে।
 
এছাড়া রয়েছে অবকাঠামোর সমস্যা। মানা হয় না চেইন অব কমান্ড। সিভিল সার্জন-বিভাগীয় পরিচালক-স্বাস্থ্য অধিদফতর। এই চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে।
 
অহেতুক যন্ত্র কেনা ঠেকাতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেককে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন আগের মতো ঢালাওভাবে যন্ত্র কেনা হবে না। যাচাইবাছাই করে কমিটি সিদ্ধান্ত দিলে তবেই নতুন যন্ত্র কেনা হবে।
 
মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আগের চেয়ে এখন হাসপাতাল বেশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকছে। চিকিত্সকরাও আগের চেয়ে বেশি হাসপাতালে উপস্থিত থাকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরাও এটা স্বীকার করেছেন। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য যা দরকার সেটাই করবে সরকার।
 
গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল হক দীন মোহাম্মদ, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বৈশাখী টিভির প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া, বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সরফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। 
 
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ
 
এগিয়ে যাচ্ছে’
 
এদিকে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্বে আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। স্বাস্থ্য সেক্টরের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে চিকিত্সকদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্বাচিপের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক, স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রমুখ।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top