কৃষ্ণাঙ্গ যাত্রীকে অবজ্ঞা করে শ্বেতাঙ্গ যাত্রীকে উঠানোয় ২৫ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হচ্ছে নিউ ইয়র্কের পাকিস্তানি এক ট্যাক্সিচালককে।
নিউ ইয়র্ক সিটির অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল’ জাজ রেমন্ড ক্র্যামার ট্যাক্সিচালক বাকির রাজাকে সমপ্রতি এই দণ্ডাদেশ দেন।
জরিমানার ১০ হাজার ডলার দিতে হবে বর্ণবৈষম্যের শিকার আফ্রিকান-আমেরিকান সিনথিয়া জর্দানকে। অবশিষ্ট ১৫ হাজার ডলার পাবে হিউম্যান রাইটস কমিশন, যারা বর্ণবৈষম্যের ঘটনাগুলোর মামলা পরিচালনা করে।
মামলায় বলা হয়, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাণকেন্দ্র ‘মেসি’ স্টোরের সামনে কুইন্সের বাসিন্দা সিনথিয়া তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে ব্রায়াকে নিয়ে ট্যাক্সির অপেক্ষায় ছিলেন। তখন বাকির রাজার ট্যাক্সিতে উঠতে গেলে তিনি তাদের জানান, তিনি এখন ডিউটিতে নেই।
তবে ট্যাক্সির দরজা বন্ধ করে বাকির রাজা ২৫ গজ সামনে গিয়ে দুই শ্বেতাঙ্গ যাত্রীকে গাড়িতে উঠালে সিনথিয়া দ্রুত সেখানে গিয়ে চালককে আটকান। তখন তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিলেও বাকির তাতে কান দেননি বলে জানান সিনথিয়া।
সিনথিয়া আদালতে অভিযোগটি করলে বাকির নিজের দোষ স্বীকার করেন। জাজ রেমন্ড তার রায়ে বলেছেন, “বাকির রাজা সিনথিয়া এবং তার মেয়েকে ট্যাক্সিতে উঠাননি তাদের বর্ণের কারণে। এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।”
তবে নিউ ইয়র্ক সিটির ২৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালকসহ লক্ষাধিক চালক এই দণ্ডাদেশে হতাশা প্রকাশ করেছে।
ইউনাইটেড ট্যাক্সি ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ওসমান চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিফট পরিবর্তনের সময় হলে কোনো ড্রাইভারই দূরবর্তী গন্তব্যে যেতে চান না। ঘটনাটি সে সময়ের হলে তা সকল ড্রাইভারের জন্যে বড় ধরনের একটি দুঃসংবাদ।”
“আর অধিকাংশ সময়েই আফ্রিকান-আমেরিকানরা গন্তব্যে পৌঁছার পর ভাড়া না দিয়ে পালিয়ে যায় অথবা ভাড়া চাইলেই ড্রাইভারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে,” অভিযোগের সুরে বলেন ট্যাক্সিচালকদের সংগঠনের এই নেতা।

