সদর উপজেলার মস্তফাপুরের দুই স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া ও হ্যাপি হত্যা, রাজন হত্যাসহ সারা দেশে শিশু হত্যার প্রতিবাদে গতকাল মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হলে পুলিশ ব্যানার কেড়ে নিয়ে মানববন্ধন পণ্ড করে দেয়। এসময় আয়োজক গাউস-উর-রহমানকে আটক করে নিয়ে যাবার সময় মিডিয়াকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বাধার মুখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
জানা যায়, স্থানীয় এ এইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের কর্তৃপক্ষ মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আইনজীবী, নিহতদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই মানববন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য এসেছিলেন। এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেয়া নিহত সুমাইয়া আক্তারের বাবা বেল্লাল শিকদার ও হ্যাপীর মা মুক্তা বেগম জানান, আসামি পক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। যে কারণে কেউ মানববন্ধন বা অন্য কর্মসূচি পালন করতে চাইলে অবশ্যই পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। ঐ স্কুল এন্ড কলেজের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমাদের জানায়নি। তাই তাদের মানববন্ধন করতে দেয়া হয়নি। তবে অনুমতি চাইলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীর দুই ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার ও হ্যাপী আক্তারকে গত বৃহস্পতিবার বিকালে হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ তাদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মাদারীপুর মডেল থানা পুলিশ মস্তফাপুর গ্রামের কামাল শিকদারের ছেলে রকিব শিকদার, কুদ্দুস শিকদারের ছেলে শিপন শিকদার ও আক্তার দর্জির ছেলে রফিকুল দর্জিকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও বাকি আসামিরা হলো- রানা, উজ্জ্বল, মেহেদী ও সাজিদ।

