ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় দুই দেশের ৯ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত গতকাল রবিবার পাকিস্তানি হাইকমিশনার আবদুল বাসিতকে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তলব করে। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে এসব হামলা চালাচ্ছে। গত ১৫ আগষ্ট ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সীমান্তে পাকিস্তানি সীমান্ত বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হয়। খবর এনডিটিভি ও ডন’র।
শনিবারে গুলি বিনিময়ে আহত হয়েছে ভারতের ৯ জন এবং পাকিস্তানের ৩ জন। নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক। পুঞ্চ সেক্টরের ডেপুটি কমিশনার নিসার আহমাদ ওয়ানি জানান, বিকেলে বালাকোট সেক্টরে শেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি গ্রামের প্রধানসহ ৬ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে ১২ বছরের এক শিশুও রয়েছে। আহত হয় ৬ জন। এর আগে সকালে সাবজিয়ান সেক্টরের দুটি স্থানে চালানো হামলায় ৩ জন আহত হয়েছে। এই সেক্টরে গত এক সপ্তাহ ধরে শেষ নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শনিবার সারারাত দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। অনেক পরিবার এখান থেকে অন্যত্র চলে গেছে।
গতকাল বিকালে আবদুল বাসিত পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ভারত ২০০৩ সালের পর ৭০ বার অস্ত্রবিরতি আইন লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। পুঞ্চের লাইন অব কন্ট্রোল সীমান্তে (এলওসি) এ ধরনের হামলা চলেছে গত এক সপ্তাহ ধরে। ২০০৩ সালের আগষ্টে যুদ্ধবিরতির পর এখানে ২৮ বার তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতি বছর ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে মিষ্টি বিতরণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটলো। সমপ্রতি শেষ হওয়া লোকসভার অধিবেশনে সরকার জানায়, ২০০৩ সালের পর গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সীমান্তে ১৯২ বার যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে পাকিস্তান।

