ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার বঙ্গবন্ধুর প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা

S M Ashraful Azom
বিনম্র ও গভীর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ, প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়ন এবং শোককে শক্তিতে পরিণত করে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল শনিবার পালিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। শোকাবহ ১৫ আগস্টে বাঙালি জাতি চোখের জল আর হূদয়ের ভালোবাসায় স্মরণ করেছে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল শহীদকে। জাতির পিতাকে হারানোর বেদনায় বাঙালি জাতি দিনভর কেঁদেছে। শোকাচ্ছন্ন নীরবতায় যেন থমকে গিয়েছিল গোটা দেশ। ৪০ বছর হয়ে গেল, এখনও মৃত্যুঞ্জয়ী মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে ভোলেনি কৃতজ্ঞ বাঙালি। বরং নতুন করেই নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে বাঙালি জাতি গতকাল ৪০ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করেছে। যিনি জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ, লাখো শহীদের রক্তস্নাত লাল-সবুজের পতাকা। শুনিয়েছিলেন সেই অমর বাণী— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ দেশজুড়ে দিনব্যাপী জাতীয় শোক দিবসের প্রতিটি কর্মসূচিতেই বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর এবং চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি ছিল প্রচণ্ড। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করে দেশ এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
 
সকাল সাড়ে ৬টায় দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতি সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে পৌঁছলে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দুজনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তারা মোনাজাত করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা জানানোর পর দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির ভেতরে যান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ পড়ে ছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি। পরে ওই ভবনের একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বনানী কবরস্থানে যান শেখ হাসিনা। সেখানে মা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৫ আগস্ট শহীদদের প্রতিটি কবরে গোলাপের পাপড়ি ছিটান শেখ হাসিনা। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দেয়ার পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারা। বাদ আছর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সব হারানোর বেদনার্ত অশ্রু সবাইকে আবেগতাড়িত করে।
 
সারাদেশ শোকের লাখ লাখ কালো ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ঢেকে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণ এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারস্থল হয়ে উঠেছিল শোকার্ত লাখো মানুষের মিলন মোহনা। শহরজুড়ে দেয়ালে দেয়ালে শোকের তোরণ ও পোস্টার, কালো পতাকা, বঙ্গবন্ধুর বজ কণ্ঠের সেই ভাষণ ও স্মৃতি জাগানিয়া গানে গোটা রাজধানীর পরিবেশটাই পাল্টে গিয়েছিল।
 
শুধু আওয়ামী লীগই নয়, সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ, সংগঠন এবার বিস্তারিত কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করছে মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিনব্যাপী শহরজুড়ে মাইকে প্রচারিত হয়েছে কোরআন তেলাওয়াত এবং এর ফাঁকে ফাঁকে দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া গান। এছাড়া মাইকে উচ্চারিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর তেজোদীপ্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠের সেই আহ্বান:‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক... এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
 
গতকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে তোলা হয়। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বাদ জোহর সারাদেশে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগ সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে। দিনভর চলেছে কাঙ্গালি ভোজ। ঢাকা মহানগরের ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্পরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের সকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালসহ জেলা, উপজেলা হাসপাতাল এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘চিত্রগাঁথায় শোকগাঁথা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী সবার নজর কাড়ে।
 
মা-ভাইয়ের সমাধি পাশে
 
শোকবিহ্বল প্রধানমন্ত্রী
 
গতকাল ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বনানীর কবরস্থানের সারি বাঁধা ১৮টি কবর। এসব কবর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নরপিশাচ ঘাতকচক্রের নির্মম বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নিহত বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শিশুপুত্র রাসেলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। ৪০ বছর আগে ঘাতকদের বন্দুকের নলের মুখে স্বজনদের চোখের জলে শেষ বিদায়টুকু দিতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। গতকাল শনিবার সকালে মা-ভাইদের কবরে গিয়ে চোখের জল থামিয়ে রাখতে পারেননি একসঙ্গে সব স্বজনহারা শোকবিহ্বল শেখ হাসিনা। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় স্বজনদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোনাজাত ও ফাতেহা পাঠ করেন। জাতির পিতার এই কন্যা নিজ হাতে মুঠো মুঠো ভালবাসার ফুল ছড়িয়ে দেন প্রিয় স্বজনদের কবরে। নেতা-কর্মী, মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে গেলে সেখানে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই সেখানে চলছিল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরানখানি ও দোয়া মাহফিল। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একে একে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানান।
 
মিলাদ মাহফিলে রাষ্ট্রপতির যোগদান
 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত্ বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বঙ্গভবনে এক মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বাদ আছর দরবার হলে অনুষ্ঠিত এ মিলাদ মাহফিলে যোগ দেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের রূহের মাগফেরাত ও আল্লাহর রহমত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলাদ মাহফিলে যোগ দেন। বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সাইফুল কবীর মিলাদ পরিচালনা করেন।
 
মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মিলাদ
 
মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান
 
মহিলা আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বাদ আছর রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজন মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের নেত্রী ও কর্মীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৫ আগস্টের দুর্ভাগ্যের রাতে শাহাদাত্বরণকারী বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং অন্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের রুহের মাগফেরাতও কামনা করা হয়।
 
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল
 
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিশিষ্টজনসহ সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সকাল ৬টার মধ্যেই ভরে ওঠে পুরো ৩২ নম্বর সড়ক। নারী-পুরুষ এবং শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জাতির পিতাকে স্মরণ করে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
 
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি জেপি’র
 
শ্রদ্ধা নিবেদন
 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টির (জেপি) পক্ষ হতে গৃহীত ২ দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন গতকাল সকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঢাকা ও টুঙ্গীপাড়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালন করে জেপি। সকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে  জেপি’র নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
 
এসময় জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহ্ রফিকুল বারী চৌধুরী, মফিজুল হক বেবু, এটিএম আমিনুল ইসলাম পিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান মীর হারুনুর রশিদ হারুন, শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, যুগ্ম দপ্তর জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, যুবসংহতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম. সেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, খুলনা মহানগরীর আহ্বায়ক রাসিদা করিম প্রমুখ।
 
এর আগে সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় জেপির অন্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মো. জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব জামিলুল হক বকুল, খলিলুর রহমান খলিল, খন্দকার শাহিন আলদ্বীন রিজভী, গাজী আমিনুর রহমান রতন, দপ্তর সম্পাদক এম সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হালিম, যুব সংহতির সভাপতি এম এ কাইয়ুম যুবসংহতির কেন্দ্রীয় নেতা জেড. সেলিম, মঞ্জুরুল হাবিব, সাখায়াত্ হোসেন দুলাল ও জেপি নেতা সৈয়দ নাজমুল হাসান প্রমুখ। মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃতে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হয়। জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল শাখা স্ব স্ব উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন করে।
 
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা
 
নিবেদন করলেন যারা
 
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে ১৪ দলের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), মহিলা শ্রমিক লীগ, তরুণ লীগ, মত্স্যজীবী লীগ, হকার্স লীগ, তাঁতীলীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, ঢাকা সিটি করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, গণপূর্ত শ্রমিক লীগ, মোটরচালক লীগ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, ওলামা লীগ, জাতীয় বিদ্যুত্ শ্রমিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফিল্ম আর্কাইভ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমি, খেলাঘর, বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বেতার কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিনিয়োগ বোর্ড, শিল্প গবেষণা পরিষদ, পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় মহিলা সংস্থা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, জাতীয় গীতিকবি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ মূল্যায়ন ও গবেষণা সংসদ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকসহ এসব ব্যাংকের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, ছিন্নমূল হকার্স লীগ, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, ঢাকাস্থ টুঙ্গিপাড়া সমিতি, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, আবদুস সামাদ আজাদ ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু শিল্পীগোষ্ঠী, সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু ফেডারেশন, টিঅ্যান্ডটি শ্রমিক ফেডারেল ইউনিয়ন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্মৃতি পরিষদ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, সাধনা সংসদ, আওয়ামী শিশু-কিশোর যুবজোট, নির্মাণ শ্রমিক লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ, জননেত্রী পরিষদ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমী, সোনার বাংলা যুব পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, স্থলবন্দর শ্রমিক লীগ, বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, টেলিযোগাযোগ শ্রমিক ইউনিয়ন, বিআইডব্লিউটিএ ঘাট শ্রমিক ইউনিয়ন, ঢাকা নৌবন্দর ঘাট শ্রমিক বহুমুখী সমবায় সমিতি, বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদ, শান্তি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমী, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, স্বাধীনতা ডিপ্লোমা চিকিত্সক পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, বৃহত্তর ফরিদপুর চাকরিজীবী কল্যাণ সমিতি, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, নৌকার নতুন প্রজন্ম, আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদ, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ, শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ, ডিপ্লোমা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশন, সনাতন আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ, চিলড্রেন্স ভয়েসসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। ৩২ নম্বরের আশপাশের রাস্তাসহ রাজধানী জুড়ে শোকের প্রতীক কালো পতাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড ও তোরণ তৈরি করা হয়েছিল।
 
নিউইয়র্কে গভীর শ্রদ্ধায়
 
বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ
 
বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জানান, গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করলো যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। শুক্রবার দিবাগত ১২টা ১ মিনিটে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে জাতীয় শোক দিবসে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তারা।
 
এদিকে এর আগে রাত ১০টায় শুরু হয় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা। আয়োজক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন করের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেলিন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ প্রমুখ। আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top