রমেশ সরকার, শেরপুর প্রতিনিধি
শুক্রবার ভারি বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী চারটি ইউনিনের প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট,বাড়িঘর, মসজিদ, কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত, মরিচ, বেগুন, শাক সব্জি, বীজতলা, শতাধিক মৎস্য খামার, পুকুর পানিতে ডুবে গেছে এবং কয়েক শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শুক্রবার রাতভর ভারি বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী সিংগাবরুনা, রানীশিমুল, কাকিলাকুড়া ও তাতিহাটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলো হ"েছ, মাটিমাটা, সিংগাবরুনা, গোবিন্দপুর, বরইকুচি, মাধবপুর, ভায়াডাঙ্গা, টেংগরপাড়া, বিলভরট, চক্রপুর, হালুহাটি, বালিজুরি, খাড়ামোড়া, রাঙ্গাজান, শিমুলকুচি, রানীশিমুল, কন্টিপাড়া, বকচর, গেরামারা, ভুতনিকান্দাসহ ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দিসহ নানা দূর্ভোগের শিকার হ"েছ। রাস্তঘাট ও বাড়িঘরে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন গরু-মহিষসহ উঁচু স'ানে আশ্রয় নি"েছ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভায়াডাঙ্গা বাজার বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দোকানিরা দোকানের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নি"েছ। বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন জানান, ১৯৮৮ সালের বন্যার চেয়েও এবারের বন্যা ভয়াবহ আকার ধারন করেছে এবং ক্ষয় ক্ষতির পরিমান প্রায় কয়েক কোটি টাকা। জানাগেছে, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীর পানি দু’কূল উপছে ফসলের মাঠ, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট প্লাবিত করেছে। বকচর গ্রামের মৎস্য খামার মালিক দেলোয়ার বলেন, ১৫ একর জমিতে মৎস্য খামার করেছি। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হালুহাটি গ্রামের মোস্তফা বলেন, ৪০ একর জমিতে ৪ টি পুকুর করে মৎস্য চাষ করেছি, বন্যার পানিতে এসকল পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ্ এফ এম মোবারক আলী জানান, ১৭ হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে, এর মধ্যে বন্যায় ৩ হাজার৩ শত ২৬ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে ডুবে গেছে। বন্যার পানি বাড়লে ক্ষয় ক্ষতির পরিমান আরো বাড়বে।


