১০ ট্যানারি মালিকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্প কারখানা সাভারে স্থানান্তরে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ‘প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায়’ এ রুল জারি করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
১০ ট্যানারি মালিক হচ্ছেন—প্যারামাউন্ট ট্যানারিজের মো. আকবর হোসেন, রানা লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের আরেফিন সামছুল আলামিন, রুমি লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ পাঠান, জুলেট এন্টারপ্রাইজের মো. সায়েদুল হক মাস্টার, পূবালী ট্যানারিজের মাহবুবুর রহমান, সালাম ট্যানারির মো. আব্দুস সালাম, করিম লেদার ইউনিট-২ এর রেজাউল করিম আনসারী, মাহিন ট্যানারির আবদুল ওয়াদুদ মিয়া, নবীপুর ট্যানারির আব্দুল ওয়াহাব ও এশিয়া ট্যানারির মো. মফিজ মিয়া।
২০০৯ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করতে বলা হয়। পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু তারপরেও হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার এই অভিযোগ করা হয়। ওই আবেদনের ওপর রুল জারি করে আদালত।
ওই রুল শুনানি বিচারাধীন থাকাবস্থায় আদালতে শিল্প সচিবের ব্যক্তিগত উপস্থিতি চেয়ে আবেদন করা হয়। গত ২১ এপ্রিল আদালত শিল্প সচিবকে হাজির হতে নির্দেশ দিলে তিনি আদালতে এসে ব্যাখ্যা দেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও শিল্প সচিবের পক্ষে আইনজীবী রইস উদ্দিন আহমদ শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।
মনজিল মোরসেদ বলেন, শিল্প সচিব আদালতে হাজিরহয়ে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়রে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে দেখা যায়, ওই দশটি প্রতিষ্ঠানকে বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা হাজারীবাগ থেকে সাভারে কারখানা স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেয়নি। এর মাধ্যমে আদালতের রায় বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বিবেচনায় আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

