শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়ছে অসংখ্য হরিণ। এমনকি এ বনের প্রধান আকর্ষণ বেঙ্গল টাইগারও। এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর
যে গাছের জন্য বনটির নামকরণ হয়েছিল সুন্দরবন, চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম্যে সেই সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জে সুন্দরী গাছের কোন অস্তিত্বই নেই। সুন্দরী গাছ ছাড়াও সংঘবদ্ধ দলটি বন থেকে প্রতিনিয়ত কেটে নিচ্ছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ। সেই সাথে শিকারীদের ফাঁদে আটকা পড়ছে অসংখ্য হরিণ। এমনকি এ বনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারও। এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে জীববৈচিত্র্যের উপর।
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, বনবিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চোরাকারবারীরা প্রতিনিয়ত মূল্যবান সুন্দরী গাছ কেটে সাবাড় করছে। সরকারিভাবে গাছ কাটা নিষিদ্ধ হলেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বন কর্মকর্তারা চুরি করে গাছ কাটতে সহযোগিতা করছে। ফলে বর্তমানে সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের কোথাও একটিও সুন্দরী গাছের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন বনের শেষ সম্বল বাইন, পশুর, ধুন্দল ও গরান কাঠসহ অন্যান্য গাছ কেটে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে সুন্দরবনের মূল্যবান কাঠ পাচার করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
সূত্র জানায়, বনবিভাগের কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন মালঞ্চ খাল, হাতীভাঙ্গা, তুষখালী ও পশুর তলা এলাকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর ধরে সুন্দরী, পশুর ও বাইন গাছ কাটা নিষিদ্ধ করা রয়েছে। তারপরও বনের গরান কাঠ ও গোলপাতা কাটা মৌসুমে পাস নিয়ে বনে ঢুকে পশুর, সুন্দরী, বাইন, ধুন্দল ও কাকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সুন্দর বনকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। এছাড়া মাছ ধরা ও মধু আহরণের পাস নিয়ে বনে ঢুকে বাওয়ালী, মৌয়ালী ও মত্স্যজীবীরা সুন্দরবনের মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় চোরাকারবারীরা চুরি করে বনে ঢুকে মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। দুই একটি চালান ধরা পড়লেও অধিকাংশই থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাঝে মধ্যে কাঠসহ পাচারকারীদের আটক করলেও তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দেয়া হয় না।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) সোয়েব খান সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের কোথাও কোন সুন্দরী গাছ না থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বনের গাছ চুরি আগের চেয়ে অনেক কমেছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে গোলপাতা ও গরান কাটার পাস দেয়া হয়ে থাকে। সবাই না আনলেও কিছু কিছু নৌকায় অবৈধ ভাবে কাঠ আনা হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আটক করাও হয়ে থাকে। সুন্দরবনের মূল্যবান গাছ কাটার ব্যাপারে কোন বন কর্মকর্তার সহযোগিতার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

