সংশোধন হচ্ছে ডিসি নিয়োগ নীতিমালা কমপক্ষে তিন বছর অভিজ্ঞ, সুস্বাস্থ্য ও উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে

S M Ashraful Azom
মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ জেলা প্রশাসক তথা ডিসি নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন হচ্ছে। জানা গেছে, এটা হলে পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং  সুস্বাস্থ্য ও উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতার কর্মকর্তারা ডিসি হওয়ার সুযোগ পাবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. আবু নাসের মো. কামাল চৌধুরী ডিসি ‘ফিট লিস্ট’ (যোগ্য তালিকা) নীতিমালায় সংশোধন আনার কথা স্বীকার করলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।
 
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, নীতিমালাটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর সই হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর সইয়ের অপেক্ষায় আছে। এ নীতিমালায় বড় পরিবর্তন হল প্রাথমিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে।    আগে ডিসি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনে ইউএনও বা এডিসি হিসাবে পাঁচ বছরের কাজ করার অভিজ্ঞতার বিধান ছিল। এখন সেখানে তিন বছর করা হচ্ছে। আর নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ যোগ্যতা আরো ছয়মাস পর্যন্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
 
তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে চমকপ্রদ সংযোজন আসছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে উত্তম। তবে এই উত্তম শব্দের বিস্তারিত কোন ব্যাখ্যা নীতিমালায় নেই। আর এ কারণে এটি ‘ফিট লিস্ট’ কমিটির স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার পরিধি বাড়াবে-এই আশঙ্কা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, সাধারণত স্নাতক উত্তীর্ণরাই বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্যাডার পদে নিয়োগ পান। এখন উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন কীভাবে হবে সেটিই দেখার বিষয়।
 
সংশোধনীতে ডিসি হতে হলে সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান, ইংরেজি-বাংলায় পারদর্শিতা, সর্বোপরি চলন-বলন ও ভাষা যাচাই-বাছাই করা হবে  বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছরের অভিজ্ঞতার বিধান রাখায় কনিষ্ঠ ব্যাচের উপসচিবরা ডিসি হতে পারবেন। নারীদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত ছয় মাস শিথিল করায় বেশিসংখ্যক নারী সুযোগ পাবেন। কারণ নারী কর্মকর্তাদের বেশিরভাগেরই মাঠ প্রশাসনে বেশিদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে না। কিছুদিন চাকরির পরই নানা কারণে তারা মাঠ থেকে প্রত্যাহার হয়ে আসেন।
 
এদিকে প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কর্মকর্তারা এখন আর মাঠ প্রশাসনে যেতে আগহী হচ্ছেন না। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-পাতি নেতাদের আচরণে বেশিরভাগ জায়গায় কর্মকর্তারা খুবই বিরক্ত। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায়ও এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য, তাই পড়ে আছেন-এমন কথা জানিয়ে অনেকেই বলেন, ‘যদি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকতো তাহলে চাকরি-বাকরি ছেড়ে চলে যেতাম। অবশ্য এখন অনেকেই ‘লিয়েন’(ছুটি)নিয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। সিভিল সার্ভিসে যে মেধাবীদের সংখ্যা এখন কমে আসছে তা নীতিমালায় যুক্ত শর্তাবলী পড়লেই বোঝা যায়।’
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top