চার গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও আশা ছাড়ছে না বার্সেলোনা

S M Ashraful Azom
বছরের পঞ্চম শিরোপা নিশ্চিত করতে হলে সোমবার স্প্যানিশ সুপার কাপের ম্যাচে বার্সেলোনাকে উপহার দিতে হবে অন্য মাত্রার ফুটবল শৈলী। কারণ প্রথম লেগে তারা অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ৪-০ গোলে। তাই ২০১৫ সালে চারটি শিরোপা ঘরে তুলে নেয়া দলটিকে সফলতার ঝুড়িতে আরেকটি পালক যোগ করতে হলে নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে অপেক্ষাকৃত বড় ব্যবধানেই হারাতে হবে বিলবাওকে।
শুক্রবার এ্যাওয়ে ম্যাচে শক্তিধর বার্সেলোনাকে খড়-কুটোর মতো উড়িয়ে দেয় বাসকুইরা। তারা যেন নির্দয়ভাবেই প্রতিশোধ নিয়েছে গত মে মাসে ক্যাম্প ন্যুতে কোপা দেল রের পরাজয়ের। ম্যাচে বিলবাওয়ের হয়ে হ্যাট্রিক করেন আরিত আদুরিজ। এর আগে দলের হয়ে দূরপাল্লার শটের মাধ্যমে গোলের সূচনা করেন মাইকেল সান জোসে।
বিগত আট বছরের মধ্যে স্প্যানিশ প্রতিপক্ষ কোন দলের কাছে এটিই ছিল বার্সেলোনার ৪ গোলের ব্যবধানে প্রথম হার। আর ১৪ বছরের মধ্যে দলটি প্রথমবার পরপর দুই ম্যাচে ৮ গোল হজমের নজির সৃষ্টি করল। কারণ এর আগে অনুষ্ঠিত উয়েফা সুপার কাপে তারা ৫-৪ গোলে সেভিয়াকে হারালেও, নিজেদের জালে ঢুকেছে প্রতিপক্ষ দলটির ৪টি গোল। জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিশে ওই ম্যাচে অংশ নেয়ার তিনদিন পর স্প্যানিশ সুপার কাপে বিলবাওয়ের মোকাবেলা করে কাতালান ক্লাবটি।
এদিকে বিলবাওয়ের কাছে হেরে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ফিরতি লেগের ম্যাচ দিয়ে ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বার্সেলোনা। এ ক্ষেত্রে তাদের এই প্রত্যাশার পালে হাওয়া যোগাচ্ছে কয়েকটি বিষয়। প্রথমত ম্যাচটি তারা খেলবে নিজেদের মাঠে। আর দ্বিতীয়ত সেখানে তারা পূর্ণ শক্তির দলটিকেই মাঠে নামাতে পারবে। যে কারণে তারা মনে করছে বিলবাওকে টপকে শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া এখনো সম্ভব।
কোচ লুইস এনরিখ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি যদি কাটিয়ে ওঠার কোন সামর্থ্য কারো থাকে তাহলে সেটি বার্সার আছে।’ শুক্রবার তিনিই বিশ্রামে পাঠিয়েছিলেন রক্ষণভাগের নির্ভরযোগ্য তারকা জেরার্ড পিকে, সার্জিও বাসকুইটস, ইভান রিকটিক ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মত প্রথম একাদশের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের।
শনিবার নিজের টুইটার একাউন্টের মাধ্যমে পিকে টুইট করে লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস আছে। কারণ ক্যাম্প ন্যু’র ৯০ মিনিট (হাতে) রয়েছে।’ বার্সা বিশ্বাস করে এরকম পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ইতিহাস বার্সার রয়েছে। ২০১০ সালে এই সুপার কাপেই অনেকটা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছিল বার্সেলোনা। সেভিয়ার কাছে প্রথম লেগে ৩-১ গোলে হেরে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা দ্বিতীয় লেগে মেসির হ্যাট্রিকে ভর করে ম্যাচ জিতেছিল ৪-০ ব্যবধানে।
এদিকে অসুস্থতা ও ইনজুরির কারণে এখনো একাদশ খুঁজে পাননি নেইমার ও জর্ডি আলবা। তবে গোলপোস্ট সামলানোর জন্য গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে ডেকে পাঠিয়েছেন কোচ লুইস এনরিখ। একাদশভুক্ত হলে এটি হবে এ মৌসুমে তার প্রথম অংশগ্রহণ। এবং মার্চ আন্দ্রে টার স্টেগেনের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
এদিকে বিলবাওকে এদিন মাঠে নামতে হবে নিয়মিত একাদশের চারজন খেলোয়াড়কে বাইরে রেখে। ইনজুরির কারণেই দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে ইনাকি উইলিয়ামস, আন্দের ইতুরাসপে, মাইকেল রিকো এবং ইকার মুনিয়ানকে। যদিও আগের ম্যাচেও এদের একাদশের বাইরে রেখে দারুণ পারফর্মেন্স প্রদর্শন করেছে বিলবাও। তবে দলীয় বোঝাটি টেনে নেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে সেই আদুরিজকেই। তিনি বলেন, ‘নিজেদের মাঠে চার গোলের ব্যবধান বার্সা দূর করতে পারবে না, এমন ভাবার কোন কারণ নেই। যে কোন কিছু করার মত শক্তি এবং সামর্থ্য তাদের রয়েছে।’
তবে শেষ পর্যন্ত যদি বিলবাও জয় পায়, তাহলে ৩১ বছর ধরে শিরোপা খরায় থাকা দলটির জন্য এটি হবে দারুণ এক অর্জন। আদুরিজ বলেন, ‘আমরা যদি শিরোপা লাভ করতে পারি, তাহলে সেই রাতটি হবে আমার ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ একটি রাত।’ সূত্র: বাসস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top