মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু চুক্তি অগ্রাহ্য করার মানে হলে যুদ্ধকে সমর্থন করা। তিনি আরো বলেন, পরমাণু চুক্তিটি প্রত্যাখ্যাত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গত বুধবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইহুদি-আমেরিকানদের মধ্যে পরমাণু চুক্তির বিরোধিতা করে প্রচারণা শুরুর পরপরই ওয়াশিংটন ডিসি ইউনিভার্সিটিতে এক বক্তৃতায় ওবামা এসব বলেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসে যাতে পরমাণু চুক্তির পক্ষে কোনো বিল পাস করতে না পারেন, সে ব্যাপারে প্রচারণা শুরু করেছেন নেতানিয়াহু। এরই জবাবে এ চুক্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ও কংগ্রেসকে এর পক্ষে টানতে ওবামা এমন মন্তব্য করলেন।
পরমাণু চুক্তিকে সমর্থন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি খুব ভালো একটি চুক্তি। ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের প্রতিটি দেশ এই চুক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে।’ তিনি ইসরাইল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কেন এই চুক্তির বিরোধিতায় নেমেছেন আমি তা উপলব্ধি করতে পারি। তার সদিচ্ছা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমি বিশ্বাস করি, এ ব্যাপারে তিনি ভুল পথে হাঁটছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি ব্যর্থ হলে তেহরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির পথ প্রসারিত হবে। সেক্ষেত্রে সারা বিশ্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কিন কংগ্রেসকে সতর্ক করে দিয়ে ওবামা বলেছেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া না হলে বিশ্ব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই আন্তর্জাতিক চুক্তির বিরোধিতা করলে যুক্তরাষ্ট্র একঘরে হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরাক যুদ্ধের কথা টেনে আনেন। ইরাক যুদ্ধকে ‘আমাদের দেশের সবচাইতে বিতর্কিত পররাষ্ট্র নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ একসময় যারা ইরাক হামলার পক্ষে যুক্তি দিত এখন তারাই এই পরমাণু চুক্তির বিরোধিতা করছে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুলাই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। এই চুক্তির পর ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনতে রাজি হয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স

