শিশুর স্মরণশক্তি বাড়াতে...

S M Ashraful Azom
শিশুর স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে একটি সোজা-সূত্র হলো, এক নজরে একটা বিষয় সম্পর্কে ধারণা, মনে মনে একটি ম্যাপ তৈরি করা। এর অর্থ হলো বাচ্চা যতোটুকু পড়লো তার মধ্যে নিজে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর দেয়া। এতে ওই সম্বন্ধে বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বুঝে বুঝে পড়া। কোনো কিছু না বুঝে পড়লে বেশিক্ষণ মনে থাকে না। 
 
কিছু নিয়ম, কিছু কৌশলী, কিছু ধারণা শিশুকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এরমধ্যে রয়েছে-
১. ছোট শিশুদের জন্য মায়ের দুধ, মায়ের দুধ শিশুর স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য এর বিকল্প আর কিছুই নেই।
১. কিশোর-কিশোরীদের জন্য পুষ্টি ও সুষম খাদ্য শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একান্ত দরকার। অনেক টিনএজ মেয়েরা ডায়েটিং করে থাকে। এতে স্মরণশক্তি (মেমোরি) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে।
৩. অনেক গবেষক মনে করেন, বাদাম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সকালে খাওয়ানো যেতে পারে।
৪.তাজা ফলমূল যেমন- আম, পেঁপে, পেয়ারা, তরমুজ ইত্যাদি বেশি বেশি খাওয়ানো উচিত।
৫. শিশুর আয়রণ ও জিংক ঘাটতি থাকলে স্মরণশক্তির সমস্যা থাকতে পারে। সেদিকে খেয়াল রেখে জিংক ও আয়রন চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খাওয়ানো যেতে পারে।
৬. পরিমিত ঘুম খুবই দরকার। এইজন্য পরীক্ষার আগে সারারাত জেগে পড়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হচ্ছে না। রুটিনমাফিক পড়াই উত্তম। পড়ার পর বিশ্রাম স্মরণশক্তি বাড়ায়। অর্থাৎ ঘুম স্মরণশক্তি বাড়ায়।
৭. ব্যায়াম স্মরণশক্তি বাড়ায়। বড় বড় করে বাচ্চাকে শ্বাস নিতে বলুন। 
৮. সুগার ছাড়া চুইংগাম চিবাতে পারে এতে কিছুক্ষণের জন্য; ব্রেনে অক্সিজেন সঞ্চালন বেশি হতে পারে।
৯. যদি খুব টেনশন লাগে তাহলে নিয়মিত মেডিটেশন করা যেতে পারে।
১০. পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হলে প্রয়োজন পড়াশুনা বেশিদিন মনে রাখা এবং বেশি সময় স্মরণ থাকা।
১১. কফি, কেনডি না খাওয়াই ভালো, খেতে দিন পরিমিত পরিমাণে।
১২. ছোট ছোট শিশুদের বলুন, এই ছড়াটা মনে রাখতে পারলে এই উপহারটা পাবে।
১৩. আমি পারবো- এই ধারণা শিশুকে আরো সামনে নিয়ে যেতে উৎসাহ জোগাবে।
১৪. এতোটুকু সময়ে এই পরিমাণ পড়বে- এই জন্য টাইমবক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৫. মনে মনে ওই পড়াটা আবার স্মরণ করা।
১৬. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির প্রধান শর্ত হলো শিক্ষণ। শিশুকে যতোটুকু পড়াবেন তা যেন শিশু বুঝে বুঝে পড়ে এবং পড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকে এমন কিছু মিলিয়ে উদাহরণ দিয়ে কোনো ক্ষেত্র তৈরি করে পড়ানো উচিত।
১৭. ছন্দ ও সুর করে পড়া ভালো।
১৮. মৃদু জোরে জোরে পড়লে দুটি ইন্দ্রীয় কাজ করে থাকে বিধায় মনোযোগ বেশি থাকে- শিশুর জন্য এটি দরকারি।
১৯. প্রতিদিন নিয়মিত পড়লে খুব অল্পতে পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায়।
২০. পরীক্ষার আগে অনেক মানসিক চাপ থাকে- এই চাপের কারণে পড়া শেষ হয় না অতএব রুটিনভাবে পড়া উচিত।
২১. একটানা দীর্ঘ সময় পড়ার পর মাঝখানে একটু বিশ্রাম নেয়া ভালো। তাতে আবার পূর্ণ শক্তি পাওয়া যায়।
২২. পড়ার পর, মাঝখানের থেকে প্রশ্ন করতে হবে কি পড়লাম।
কী এবং কেন এই প্রশ্নটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
 
বাবা-মা ও শিক্ষক-শিক্ষীকা ছাত্রছাত্রীর প্রতি একটু খেয়াল ও সতর্ক দৃষ্টি রাখলে সন্তান ভালো ফলাফল করতে পারে।  

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top