গাইবান্ধার বন্যা দুর্গত এলাকায় ডায়রিয়া

S M Ashraful Azom
গাইবান্ধার বন্যা দুর্গত এলাকায়  ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আক্রান্ত ৩০ রোগী। সিরাজগঞ্জে ১৪৯টি বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে আটটি। যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
 
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় বন্যা কবলিত এলাকায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩০ রোগী গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বেডে জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে রেখে তাদের চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘রোগীদের পানিশূন্যতার পরিমাণ বেশি। রোগী ভেদে ১০ থেকে ২০ হাজার সিসি স্যালাইন দিতে হচ্ছে। এটি নতুন কোনো ভাইরাসের কারণেও ঘটতে পারে বলে আমরা সন্দেহ করছি।’ জেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় বর্তমানে ১২০টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
 
এদিকে নদ-নদীগুলোর পানি এখনো বিপদসীমার ওপরে থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গাইবান্ধা শহররক্ষার গোদারহাট এলাকার ঘাঘট নদীর সোনাইল বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে গতকাল বুধবারও পানি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পানিতে লক্ষ্মীপুর-গাইবান্ধা সড়ক তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ডাকাত আতঙ্কে বন্যা কবলিত চর অঞ্চলের মানুষ নির্ঘুম রাত পার করছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও এখনও ব্রহ্মপুত্র বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও নদী ভাঙনে সিরাজগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। গত কিছু দিনে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী সদর ও চৌহালী উপজেলাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই দুটি উপজেলায় ইতোমধ্যে আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক অফিস সূত্র জানায়, জেলার মোট ১৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়েছে।
 
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, গত কয়েক দিনে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাটসহ আবাদি জমি। উপজেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা।
 
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নাগেশ্বরীতে চলতি বন্যায় তলিয়ে গেছে ৬শ পুকুরসহ ১৪০ হেক্টর জলাশয়। ভেসে গেছে ৪ কোটি টাকার মাছ। এবারে বন্যায় সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে পৌরসভার কিছু অংশসহ কচাকাটা, কেদার, নুনখাওয়া, বল্লভেরখাস, নারায়ণপুর, রায়গঞ্জ, বেরুবাড়ী, কালীগঞ্জ ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন।
 
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান,  মুন্সীগঞ্জে পদ্মার পানি এখনও বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তাই এখনও নিম্নাঞ্চলে কিছু এলাকা জলমগ্ন রয়েছে। লৌহজংয়ের খড়িয়া, দক্ষিণ হলদিয়া এবং পুরনো মাওয়া ঘাটে নদী ভাঙন এখনও বন্ধ হয়নি। নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top