নয়া যোগাযোগ প্রযুক্তির আশীর্বাদে একটি ছবিই বদলে দিয়েছে ‘অভিবাসী সঙ্কট’ নামের অমানবিক বিশ্ব বাস্তবতা। সাগরপাড়ে তিন বছর বয়সী আয়লানের নিথর দেহের ছবিতে কেঁপে উঠেছে বিশ্ববিবেক। সবার সামনেই স্পষ্ট হয়েছে অভিবাসী সঙ্কটের ভয়াবহতা। আর তাই সুর বদলিয়েছে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো। আর বিপুল সহায়তা জমছে ‘অভিবাসী’দের জন্য।
সাগরে আটকে পড়া অভিবাসীদের সাহায্যে কাজ করা সংগঠনে দাতব্যেও পড়েছে এর প্রভাব। ছবি প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়েছে মাইগ্রেন্ট অফশোর এইড স্টেশনের ফান্ডে।
সংস্থাটির কাজই হলো সমুদ্রেপথে যাত্রা করা অভিবাসীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এখন পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ঝুকিপূর্ণ নৌকা থেকে উদ্ধার করেছে তারা। এক বিবৃতির মাধ্যমে তারা জানায়, একদিনের মধ্যেই এত অর্থ যোগ হয়েছে যা গত দুইবছরেও হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষ যখন সমুদ্রে মারা যাচ্ছে তখন আমরা নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। গতকালের দাতাদের সাহায্য নিয়ে আমরা খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। দাতব্যের সকল অর্থই আমাদের কাজে সাহায্য করবে এবং আমরা আরো বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারবো।’
২০১৩ সালে ইতালির দ্বীপ ল্যামপেডুসার উপকূলে ৪০০ অভিবাসী ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা নাড়া দিয়ে যায় ক্রিস্টোফার ও রেইনা ক্যাট্রাম্বোনকে। তখনই সংস্থাটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তারা।
অভিবাসীদের উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে শুরুতেই ৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করে মাইগ্রেন্ট অফশোর এইড স্টেশন এমওএস গড়ে তোলেন তারা। সংস্থাটির ১৩০ ফুট নৌকা, দুটি বিমান ও দুটি ছোটো নৌকা রয়েছে।
আয়লানের পরিবারের মতো অনেক পরিবারই সাগরের মাঝে প্রাণ হারান। আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ হাফিংটন পোস্টকে জানান, তাদের অর্থাভাব এতটাই প্রকট ছিলো যে তিনি তার পরিবারের জন্য লাইফ জ্যাকেটও কিনতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার জীবন দিয়ে তাদের বাঁচাতে পারতাম! আমরা ঘণ্টাখানেক নৌকা ধরে ছিলাম। আমার সন্তানরা তখনও বেঁচে ছিল। ঢেউয়ের কবলে পরে আমার প্রথম সন্তান মারা যায়। দ্বিতীয় সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আমার তাকে ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু সেও ডুবে যায়। আমি পেছনে ফিরে দেখি আমার স্ত্রীও ডুবে গেছে।’
তবে আয়লানের এই ছবি দেখেই যেন টনক নড়েছে বিশ্বনেতাদের। ছবি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য তাদের দেশে হাজারো অভিবাসী আশ্রয়ের ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, সিরিয়ার তিন বছর বয়সী আয়লান কুর্দির মৃতদেহ তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে ভেসে থাকার ছবি তার মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একজন বাবা হিসেবে তিনি খুবই মর্মাহত। ব্রিটেন তার নৈতিক দায়িত্ব পূরণ করবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্তত দুই লাখ গৃহহীন লোককে এখন আশ্রয় দেয়া উচিত ইউরোপের। এরপর ১২শ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয় ব্রিটেন। এগিয়ে আসে আয়ারল্যাল্ডও।
অন্যদিকে এ বছর অন্তত ৮ লাখ অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয় জার্মানি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সিরীয় অভিবাসীরা জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে পারে। এছাড়া শনিবার সকালে পাঁচ হাজার অভিবাসী হাঙ্গেরি থেকে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।
তবে অভিনব প্রস্তাব দেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইউহা সিপিলা। অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তাদের জন্য নিজের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরু থেকে তার উত্তর ফিনল্যান্ডের বাড়িতে অভিবাসীরা থাকতে পারেন।
চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী দেশত্যাগের পর মারা গেছেন কিংবা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তবুও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগরপথে অন্য দেশে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন। ইউএনএইচসিআর তথ্য মতে, বেশিরভাগ শরনার্থীই সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে অন্য দেশে যাচ্ছেন।
সাগরে আটকে পড়া অভিবাসীদের সাহায্যে কাজ করা সংগঠনে দাতব্যেও পড়েছে এর প্রভাব। ছবি প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়েছে মাইগ্রেন্ট অফশোর এইড স্টেশনের ফান্ডে।
সংস্থাটির কাজই হলো সমুদ্রেপথে যাত্রা করা অভিবাসীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এখন পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ঝুকিপূর্ণ নৌকা থেকে উদ্ধার করেছে তারা। এক বিবৃতির মাধ্যমে তারা জানায়, একদিনের মধ্যেই এত অর্থ যোগ হয়েছে যা গত দুইবছরেও হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষ যখন সমুদ্রে মারা যাচ্ছে তখন আমরা নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। গতকালের দাতাদের সাহায্য নিয়ে আমরা খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। দাতব্যের সকল অর্থই আমাদের কাজে সাহায্য করবে এবং আমরা আরো বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারবো।’
২০১৩ সালে ইতালির দ্বীপ ল্যামপেডুসার উপকূলে ৪০০ অভিবাসী ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা নাড়া দিয়ে যায় ক্রিস্টোফার ও রেইনা ক্যাট্রাম্বোনকে। তখনই সংস্থাটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তারা।
অভিবাসীদের উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে শুরুতেই ৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করে মাইগ্রেন্ট অফশোর এইড স্টেশন এমওএস গড়ে তোলেন তারা। সংস্থাটির ১৩০ ফুট নৌকা, দুটি বিমান ও দুটি ছোটো নৌকা রয়েছে।
আয়লানের পরিবারের মতো অনেক পরিবারই সাগরের মাঝে প্রাণ হারান। আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ হাফিংটন পোস্টকে জানান, তাদের অর্থাভাব এতটাই প্রকট ছিলো যে তিনি তার পরিবারের জন্য লাইফ জ্যাকেটও কিনতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার জীবন দিয়ে তাদের বাঁচাতে পারতাম! আমরা ঘণ্টাখানেক নৌকা ধরে ছিলাম। আমার সন্তানরা তখনও বেঁচে ছিল। ঢেউয়ের কবলে পরে আমার প্রথম সন্তান মারা যায়। দ্বিতীয় সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আমার তাকে ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু সেও ডুবে যায়। আমি পেছনে ফিরে দেখি আমার স্ত্রীও ডুবে গেছে।’
তবে আয়লানের এই ছবি দেখেই যেন টনক নড়েছে বিশ্বনেতাদের। ছবি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য তাদের দেশে হাজারো অভিবাসী আশ্রয়ের ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, সিরিয়ার তিন বছর বয়সী আয়লান কুর্দির মৃতদেহ তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে ভেসে থাকার ছবি তার মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একজন বাবা হিসেবে তিনি খুবই মর্মাহত। ব্রিটেন তার নৈতিক দায়িত্ব পূরণ করবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্তত দুই লাখ গৃহহীন লোককে এখন আশ্রয় দেয়া উচিত ইউরোপের। এরপর ১২শ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয় ব্রিটেন। এগিয়ে আসে আয়ারল্যাল্ডও।
অন্যদিকে এ বছর অন্তত ৮ লাখ অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয় জার্মানি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সিরীয় অভিবাসীরা জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে পারে। এছাড়া শনিবার সকালে পাঁচ হাজার অভিবাসী হাঙ্গেরি থেকে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।
তবে অভিনব প্রস্তাব দেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইউহা সিপিলা। অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তাদের জন্য নিজের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরু থেকে তার উত্তর ফিনল্যান্ডের বাড়িতে অভিবাসীরা থাকতে পারেন।
চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী দেশত্যাগের পর মারা গেছেন কিংবা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তবুও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগরপথে অন্য দেশে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন। ইউএনএইচসিআর তথ্য মতে, বেশিরভাগ শরনার্থীই সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে অন্য দেশে যাচ্ছেন।
