মাদকদ্রব্যের বিস্তার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। তিনি আজ সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে পাচারকৃত মাদকের মধ্যে ইয়াবা অন্যতম। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করার লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে কক্সবাজার জেলায় ইয়াবা পাচার বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে ইতোমধ্যে মায়ানমার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবা পাচার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কক্সবাজার জেলায় মাদক অপরাধ দমন কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে একটি নতুন অস্থায়ী সার্কেল অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী ৩২টি জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এবং সীমান্তবর্তী ১২৯টি উপজেলার প্রায় সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সভা-সমাবেশ করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার নির্দেশনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মাদক বিরোধী সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্য পুস্তকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রচেষ্টায় মাদকাসক্তি এবং মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য বিস্তার প্রতিরোধে সীমান্তর্তী স্থল ও নদী পথে বিজিবি চৌকি ও কোস্টগার্ডের মাধ্যমে নদীপথে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মায়ানমারের সাথে ২টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ৪টি এবং বাংলাদেশ ও মায়ানমারের নোডাল এজেন্সির মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব চুক্তির ফলে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে তথ্য আদান প্রদান হচ্ছে, যা মাদকদ্রব্য পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাসস।

