জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে গ্রিসের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক-যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। একে অপরের উপর অর্থনৈতিক সঙ্কটের দায় চাপিয়ে সিদ্ধান্তহীন থাকা ভোটারদের জয় করতে চাচ্ছেন তারা। বুধবার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথমবারের মতো টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস ও তার বামপন্থী রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বী এভানজেলোস মেইমারাকিস। খবর রয়টার্সের।
এতে সিপ্রাস বলেছেন, জুলাইতে তিনি যে আন্তর্জাতিক বেইল আউটে রাজি হয়েছেন তা গ্রিসকে স্থিতিশীল করেছে। এর বিরোধিতা করে মেইমারাকিস বলেছেন, এই বেইল আউট গ্রিসের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘একটি সমঝোতা সবসময় তার ফলাফল দিয়ে বিচার করতে হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এর ফলাফল জানুয়ারির তুলনায় অনেক বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।’
জানুয়ারিতে সিপ্রাসের নেতৃত্বাধীন সিরিজা পার্টি নির্বাচনে জিতে গ্রিসের ক্ষমতায় এসেছিল। মেইমারাকিস সেই সময়টিরই উল্লেখ করেছেন। মেইমারাকিসও সেই সময় সিপ্রাসের নেতৃত্বাধীন পার্টিটির অন্যতম নেতা ছিলেন। সিপ্রাসের সিদ্ধান্তের কারণে বিনিয়োগকারীরা ভয় পেয়ে পালিয়েছে এবং এতে বেসরকারি খাতে চাকরির সুযোগ হ্রাস পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন মেইমারাকিস। নিজ দলের সাত মাসের শাসনকালের পক্ষে অভিযোগ খণ্ডন করে সিপ্রাস বলেন, ‘আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারিনি কিন্তু আমরা লড়াই করেছি এবং একটি সমঝোতা নিয়ে ফিরেছি। হয়তো এটি বেদনাদায়ক, তবে এর ভালো কিছু দিকও আছে।
ব্যয় সঙ্কোচনের বিরুদ্ধে নিজদলের সদস্যদের বিদ্রোহের মুখে অগাস্টে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেন সিপ্রাস। দাতা দেশগুলোর দেওয়া ৮৬ বিলিয়ন ইউরোর অর্থনীতি উদ্ধার প্যাকেজের বিনিময়ে, দাতাদের দেওয়া শর্তানুযায়ী কঠোর ব্যয় সঙ্কোচন কার্যকর করতে, ভোটারদের শক্ত সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চান তিনি। কিন্তু গ্রিসের নির্বাচনপূর্ব জরিপগুলো বলছে, ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত সিপ্রাসের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে করা জরিপে মেইমারাকিসের নিউ ডেমোক্র্যাসি পার্টি ও সিপ্রাসের সিরিজা পরস্পরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার অবস্থায় আছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে করা হচ্ছে, দ্বিতীয় পর্বের ভোট এড়াতে এ দুটি দলের কোনো একটিকে ছোট কোনো দলের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করতে হবে। উভয়দলই দ্বিতীয় পবের্র ভোট এড়ানোর কথা জানিয়েছে। প্রচারণার এ পর্যায়ে উভয়দলই এখনও সিদ্ধান্তহীন আছেন এমন ভোটারদের (যাদের সংখ্যা বিশাল) মন জয়ের চেষ্টায় আছেন। এসব ভোটারের অনেকেই সাত বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করতে না পারা রাজনৈতিক পদ্ধতি ও ব্যয় সঙ্কোচন নীতির উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে আছেন।

