গল্প

G M Fatiul Hafiz Babu
সারপ্রাইজ-
 
সুলতানুল আরেফীন ঃ
 
 নাজিম  সাহেব জানালার গ্রিল ধরে
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বাহিরের দিকটা তাকিয়ে
দেখছেন।  মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তার
ইচ্ছে করছে বৃষ্টি ভিজতে। কিন্তু মন
সায় দিচ্ছেনা। কারন, তিনি হার্টের রোগী ।
তার শ্বাস কষ্ট রোগটাও আছে। তিনি
ইচ্ছে করলেই বৃষ্টিতে ভিজতে পারেন
না।তার বেশ কিছু বিধিনিষেধ আছে।
যা তাকে মেইনটেন করতে হয়। সবকিছু
মেনে চললেও একটা ব্যাপারে মেনে
নিতে পারেন না। আর তা হলো সিগারেট ।
ডাক্তার মশাই তাকে বারবার বলছেন
তাকে সিগারেট ছাড়তে তিনি পাচ্ছেন
না। তিনি পকেট থেকে একটা সিগারেট
বের করলেও লাইটার টা  পেলেন না।
নিশ্চয় ই লাইটার রা নাজমুন সরিয়েছে ।
নাজিম সাহেব সিগারেট টা আবার
পকেটে গুজে রাখলেন। নাজমুন যেহেতু
লাইটার সরিয়েছে তাহলে আর সিগারেট
খাওয়া হচ্ছেনা।
গতসপ্তাহেও তিনি নূর ডায়াগনস্টিক &
ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
ডাঃ ইউনুস আলী খান কে দেখাতে ।
ইসিজি রিপোর্ট দেখে ডাঃ ইউনুস আলী খান তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,
এরপর যদি কখনো স্মোক করেন।
তাহলে আমি আর আপনার চিকিৎসায় করবোনা।তারপরেও তিনি ছাড়তে
পাচ্ছেন না ।চালিয়েই যাচ্ছেন।
- বাবা, ছটফট করছো কেন? 
নাজিম সাহেব লক্ষ করলেন তার মেয়ে
তার পিছনে দাড়িয়ে আছে।
তাকে কি বলতে চাচ্ছে।
তিনি বুঝতে পারছেন ।তারপরেও
তিনি বললেন,কিছু বললি মা?
-ছটফট করছো মনে হচ্ছে  ?
- না। ছটফট করবো কেন?
-দেখে তো তাই মনে হচ্ছে?সিগারেট
খেতে ইচ্ছে করছে বুঝি?
নাজিম সাহেব একটুু মুচকি হাসলেন।
-আচ্ছা বাবা, সিগারেট খেয়ে কি লাভ
বলো?  মা মারা যাওয়ার পর যে এই
নেশাটা ধরাইছো ।এখনো এই নেশার
মধ্যে ডুবে আছো।মা ও ক্যান্সারে মারা
গেল। তোমার ও হার্টের সমস্যা ।বাবা
আমি তোমাকে হাঁরাতে চাইনা।
নাজমুনের চোখের পানি টলমল করছে।
নাজিম সাহেব নাজমুন কে বুকে জড়িয়ে
ধরে বললেন, আরে পাগলিনী কাঁদছিস
কেন? মা কাঁদলে কি ছেলের ভাল লাগে
বল? যা তুই যখন বলেছিস, আজ থেকে
আর খাবোনা।
-বাবা সত্যি বলছো?
-হুঁ। আমি কি কখনো মিথ্যে বলি।
-দেখতে হবেনা লক্ষী বাবা টা কার?
-হয়েছে হয়েছে। আমাকে আর পাম
দিতে হবেনা। আমারে তো বারোটা
বাজাইলি।
-কি যে বলোনা বাবা। বারোটা অনেক
আগেই পার হয়েছে। এখন প্রায় দুইটা
বাঁজে।বাবা আজ তোমার জন্য একটা
সারপ্রাইজ আছে।
-কি?
-সারপ্রাইজ তো সারপ্রাইজ ।আগে
বললে তো মজাই শেষ।
-তাহলে চল দেখি ভিতরে। কি সারপ্রাইজ
আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
★★★★★
নাজিম সাহেব বেলকনি থেকে ভিতরে
হাঁটা ধরলেন। নাজমুন আজ বাবার
জন্য ভুনাখিচুড়ি রান্না করছে। বাদলা
দিনে ভুনাখিচুড়ি বাবার কাছে নাকি
বেশ লাগে? মা বেঁচে থাকতে নাজমুন
দেখতো, বৃষ্টি দিনে বাবা হুট করে অফিস
থেকে চলে আসতো। সাথে দু-এককেজি
মাংস নিয়ে। আর মা ও অনেক মজা করে রান্না করতো। সেই দিনগুলি নাজমুনের
কাছে এখন শুধুই স্মৃতি। নাজিম সাহেব
অনেকটা আগ্রহ নিয়ে খিচুড়ি খাচ্ছেন ।
নাজমুন বাবার দিকে হা করে তাকিয়ে
আছে।
-কিরে মা হা করে তাকিয়ে আছিস কেন?
তুই খাবিনা।
-তুমি খাও। আমি পরে খেয়ে নিব।
-পরে খাবি কেন?  এখনি খা। আর
মাংস কোথায় পেলি?
-তুমি যখন বেলকনিতে হাঁটাহাঁটি করছিলে
আমি গিয়ে নিয়ে আসছি।
-তুই গিয়ছিস কেন ?আমাকে বলতি।
-তোমাকে বললে তো আর সারপ্রাইজ
হতোনা।
নাজিম সাহেব মুচকি হাসছেন।
- বাবা আচার এনে দেই।  আমের
আচার আছে। আচার দিয়ে খিচুড়ি
বেশ লাগে।
নাজিম সাহেব হা-সূচক মাথা নাড়লেন  ।
নাজমুন পা টিপে টিপে ফ্রীজের ওদিকটায়
গেল। নাজিম সাহেব খিচুড়ি খাচ্ছেন,
আর মনে মনে হয়তো ভাবছেন,, বৃষ্টি
দিনে মেয়ের সারপ্রাইজ টা সত্যিই
অসাধারণ।যা ভুলার নয়।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top