বাড়তি দামে কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ শুরু

S M Ashraful Azom
বহুজাতিক ইউরিয়া সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে (কাফকো) গ্যাস সরবরাহে মূল্যবৃদ্ধি করে চুক্তি নবায়ন করেছে সরকার। এর মাধ্যমে ২০ বছর পর চুক্তির শর্তে পরিবর্তন আনা হলো। নবায়নকৃত চুক্তির মেয়াদ আগের চেয়ে কমানো হয়েছে। ১৯৯৫ সালে সম্পাদিত চুক্তিতে কাফকোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবারের চুক্তিতে তা নেই। এই চুক্তির ফলে প্রায় ছয় মাস পর কাফকোতে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)।
 
কেজিডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী বলেন, কাফকোর সাথে আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুনে। গত ৮ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়। নতুন করে চুক্তি করার পর ৯ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটিতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
 
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন চুক্তি অনুযায়ী, কাফকোর কাছে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস চার দশমিক ৫৫ ডলারে বিক্রি করা হবে। যা আগে ছিল তিন ডলার তিন সেন্ট। আগে চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০ বছর। এবারের চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে দুই বছর পরে চুক্তিটি পর্যালোচনা করে গ্যাসের দাম বাড়ানো-কমানো যাবে।
 
জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু বকর সিদ্দিক জানান, দেশীয় স্বার্থ বিবেচনা করে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কাফকোর সার উত্পাদন দক্ষতা বেশি। সেখানে তুলনামূলক কম গ্যাসে বেশি সার উত্পাদন হয়। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে চুক্তি করার কারণে সরকারের আয় বাড়বে। বাংলাদেশ একদিকে আগের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস দিবে অন্যদিকে কাফকোতে বাংলাদেশের শেয়ার বেশি থাকার কারণে লভ্যাংশও পাবে বেশি।
 
প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ, জাপান, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ বিনিয়োগে চট্টগ্রামের আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়া এলাকায় এই সার কারখানাটি স্থাপন করা হয়। ১৯৯৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন শুরু করে কারখানাটি। বর্তমানে এর ৪৩ ভাগ মালিকানা বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top