শ্রীবরদীর ভায়াডাঙ্গা ভূমি অফিসের সহকারি ভূমি কর্মর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

G M Fatiul Hafiz Babu
রমেশ সরকার, শেরপুর প্রতিনিধিঃ

দুর্নীতি আর অনিয়মের মধ্যে চলছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ও তাতিহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এখানে দায়িত্বরত ইউনিয়ন সহকারি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হুরমুজ আলীর এসব করে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এতে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস- হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস'া নেয়া হচ্ছে না। ফলে দু’ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ ভূমি সংক্রান- কাগজ পত্র সংগ্রহে ব্যাপক সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছেন।
         জানা যায়, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ও রানীশিমুল ইউনিয়নের ভূমি অফিস ভায়াডাঙ্গা বাজারে। এখানে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা হুরমুজ আলী যোগদানের পর থেকে ওপেন সিক্রেট অনিয়ম আর দুনীর্তি করে আসছে। সমপ্রতি জালিয়াতির ঘটনা আলোচিত হয়ে ওঠেছে এসব কার্যকলাপ। তার জালিয়াতির চক্রে পড়ে ইতিমধ্যে সর্বশ্বান- হয়েছে অনেকে। একাধিক অভিযোগে প্রকাশ, সহকারি ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হুরমুজ আলী অনিয়ম ও দূর্নীতি করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য গড়ে তোলেছে এক শ্রেণির দালাল চক্র। এসকল দালাল চক্রের হাত দিয়ে বদল হয় জাল জালিয়াতি ঘুষ বানিজ্যের অর্থ। এর মধ্যে আরো আলোচিত করেছে মিরাজ উদজামান আশরাফী। তার পিতার নাম মৃত বদরুজ্জামান আশরাফী। গ্রাম সাতানী শ্রীবরদী। মৌজা ষাইটকাকড়া। এ নামে বিআরএস খতিয়ান নং ৭২০, দাগ নং ২৩১৯, জমির পরিমাণ ৯০ শতাংশ জমির খারিজের জন্যে কাগপত্র দিয়ে আবেদন করে। পরে সহকারি ভূমি কর্মকর্তা হুরমুজ আলী ও তার দালাল চক্রের যোগসাজশে সুরবালা বৈষ্ণব, স্বামী মৃত রুপচরণ বৈষ্ণবকে গ্রহিতা করে ও শ্রীধাম বৈষ্ণবকে দাতা করে ৭১ শতাংশ জমির একটি জাল দলিল তৈরি করেন। পরে এ দলিলের খারিজ পরচা প্রদান করেছেন তিনি। যার দলিল নং-৫৩৫২, তাং ২৭/১০/১৯৮৫ইং। খারিজ কেইস নং-১৫৫৫(ওঢ-ও)২০১৪/১৫, খারিজ খতিয়ান নং ১০৮৫। অথচ ওই দলিল নাম্বারে দাতা গ্রহিতার নাম শ্রীবরদী সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের ভলিয়মে নেই। এছাড়াও ছনকান্দা গ্রামের ইলিয়াছের কাছ থেকে ১৫শ টাকা নিয়ে ১৩৮ টাকার দাখিলা প্রদান করেছেন। এভাবে তার অফিসে আসা লোকজনদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত  হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। তার এসব দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অফিস সহকারি ফরিদুজ্জামান জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়েও এখানে এ্যাসিল্যান্ড হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যস-তার কারণে হয়তো ফোন রিসিভ করেননি । তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন- করে আইনানুগ ব্যবস'া গ্রহন জরুরি। এমনটাই প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগিরা।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top