জয়পুরহাটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কার্যক্রম চালু হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন মাল্টিমিডিয়ায়।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদকরণে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ইতোমধ্যে একটি নির্দেশনা পত্র জারি করেছে।
চালু হওয়া ওয়েবসাইট ও অনলাইন কার্যক্রমের ফলে অভিভাবকরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতি মুহুর্তে স্কুলে যাওয়া ছেলে-মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারছেন। ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কার্যক্রমের ফলে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকরা দু:চিন্তা মুক্ত থাকতে পারছেন।
জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৯৭৭ সালে জাতীয়করণ করা হয়। জেলা শহরের একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয় হিসাবে সু-নামের সঙ্গে পাঠদান কার্যক্রম চলতে থাকলেও স্কুলে অনুপস্থিতি সহ নানা ঝামেলায় পড়তেন শিক্ষকরা। এ অবস্থায় বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম জয়পুরহাটে যোগদানের পর ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালুর ব্যাপারে মনিটরিং জোরদার করেন আইসিটি শাখার মাধ্যমে। ফলে বিদ্যালয় গুলোতে ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু করা হয়।
জয়পুরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে চালু হওয়া ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ এর মাধ্যমে বর্তমানে অভিভাবকরা স্কুলে অনুপস্থিতি, বেতন আদায়, পরীক্ষার ফলাফল, ছুটির নোটিশ সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ন ম্যাসেজ পেয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। এছাড়াও অভিভাবকরা লগ ইন করে ওয়েবসাইট থেকে তাঁর সন্তানের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, ইতিহাস, শিক্ষার্থীদের তথ্য, শিক্ষকদের তথ্য, ভূমির তফশিল ও মালিকানার তথ্য, ভবন , কক্ষ সংখ্যা, বিভিন্ন শ্রেণীর আসন সংখ্যা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম, কম্পিউটার ল্যাব সংক্রান্ত তথ্য, পরিচ্ছন্নতা, শরীরচর্চা, স্যানিটেশন, পঠিত বিষয়, প্রতিষ্ঠানের আইন, বিধিমালা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সফলতার তথ্যচিত্র সহ ক্লাস রুটিন, একাডেমিক ক্যালেন্ডার, বাৎসরিক ছুটির তালিকা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফলাফল, বিগত তিন বছরের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, টিসি, প্রশংসা পত্র , বিভিন্ন প্রকার হিসাব ব্যবস্থাপনা রয়েছে ওয়েবসাইটে।
আগে এসব তথ্য জানার জন্য একজন অভিভাবককে বিদ্যালয়ে যেতে হতো এখন ঘরে বসেই তা পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা আইডি নাম্বার ব্যবহার করে ব্যাক্তিগত ফলাফল জানতে পারছেন। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী সিদরাতুল মুনতাহা তুবার পিতা তোসাদ্দেক হোসেন জানান, সন্তানের স্কুলের উপস্থিতি সহ যাবতীয় তথ্যাদি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরে খুব ভাল লাগে। মেয়ে স্কুলে গেল কিনা এ নিয়ে আর চিন্তা করতে হয়না। অপর ছাত্রী শাওন্তী ইসলামের বাবা মো: শাহাদুল ইসলাম জানান, মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে দু:চিন্তা মুক্ত থাকতে পারছি।
জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন গর্ব করে বলেন, আগে ঝড়-বৃষ্টি হলে বা বছরের শুরুতে ২৫% শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যেতো না। বর্তমানে ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালুর পর ৯৯% উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালুর কারনে দুই শিফেটে ১ হাজার ২শ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালু হওয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক ও আইসিটি) তোফাজ্জল হোসেন। ইতোমধ্যে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ’স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালুর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

