কুড়িগ্রামে বন্যা পরিসি'তির আরো অবনতি ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে ৫ লাখ বানভাসীর দুর্ভোগ চরমে

G M Fatiul Hafiz Babu


ডা জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিসি'তির আরো অবনতি হয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে উপজেলার ৬৩ ইউনিয়নের সাড়ে শত গ্রাম। জেলার সাড়ে ৯শ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।
কুড়িগ্রামের উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও জেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শওকত আলী সরকার জানান, আমি রংপুরে মিটিংয়ে আছি। আমার কাছে কোন তথ্য নেই। অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন।
কাঁচা-পাকা সড়ক গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস' ভেঙ্গে পড়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসতভিটা ছেড়ে উচু বাধ সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রানের অভাবে খাদ্য বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে বানভাসীরা। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদের তীব্র সংকট।
ধরলা নদীর অববাহিকায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরশীতাইঝাড় গ্রামের আবুল হোসেন জানান, বন্যার পানি নামতে না নামতেই আবারো বাড়ী-ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। ১২-১৩ দিন থেকে বন্যার কারনে দুর্ভোগে আছি। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় নাই। খাবার নাই, কাজ নাই। খুব কষ্টে আছি।
চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের মদন মহোন গ্রামের এলাকার মতিউর, ছক্কু রাবেয়া বেগম জানান, আমরা ১৪-১৫ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি কিন' এপর্যন্ত কোন সাহায্য পায়নি।
চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, আমার এলাকায় হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি আর ২৫০ পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ত্রানের মেট্রিক টন চাল পেয়েছিলাম তা ২শতাধিক মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, চিলমারী উপজেলার জন্য নতুন করে আরো ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি যা বিতরনের কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসন থেকে বানভাসী মানুষের জন্য পর্যন্ত প্রায় ২শ ৫০ মেট্রিক টন চাল আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা এখনও বিতরন শেষ হয়নি। কিন' তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় অনেক বানভাসীর ভাগ্যে ত্রান জোটেনি।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্তদের জন্য নতুন করে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে দুর্যোগ ত্রান মন্ত্রনালয়ে জরুরী বার্তা পাঠানো হয়েছে।
'ানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুনখাওয়া পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top