প্রথম প্রান্তিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ রফতানি

S M Ashraful Azom
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে (প্রথম প্রান্তিক) রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা ২ হাজার ৬৮৩ কোটি (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে) টাকার সমপরিমাণ রপ্তানি কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা বিগত বছরগুলোর তুলনায় কমই ধরা হয়েছে। রফতানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে এ ছোট লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে। অবশ্য পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আলোচ্য সময়ে রফতানি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।
 
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিগত তিন মাসের হিসেবে প্রায় সব পণ্যই রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইপিবির হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ৬৮ ধরনের পণ্য বিদেশের বাজারে রফতানি করে। এর মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন মিলিয়ে গার্মেন্টস পণ্যই থেকেই রফতানি হয় প্রায় ৮১ শতাংশ। বিগত তিন মাসে নিটওয়্যার রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চাইতে কিছুটা বাড়লেও ওভেন রফতানি কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ৩৪১ কোটি ১৮ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওভেন রফতানি হয়েছে ৩১৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার। অন্যদিকে, ৩২০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নিটওয়্যার পণ্য রফতানি হয়েছে ৩২৫ কোটি ডলার।
 
রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানির জন্য স্বাভাবিক ও সহায়ক পরিবেশ পেলে এবারের লক্ষ্যমাত্রা হয়তো অর্জন করা সম্ভব হতো। কিন্তু সমপ্রতি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের পর বিদেশি ক্রেতারা (বায়ার) বাংলাদেশ সফরে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। বেশকিছু বায়ার অর্ডারের বিষয়ে বৈঠকের জন্য পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
 
অন্যদিকে, রফতানিতে বাংলাদেশের এককভাবে সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রফতানি প্রতিযোগী ভিয়েতনামসহ ১২টি দেশের সমন্বয়ে টিপিপি (ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) চুক্তিও রফতানি আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
 
গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, টিপিপি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভিয়েতনাম শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্য দিকে, বাংলাদেশকে প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে রফতানি করতে হয়। অর্থাত্, প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় আমরা পিছিয়ে পড়ব। এর ফলে রফতানি কমে যেতে পারে। অবশ্য ইপিবি মনে করছে চলতি বছর শেষে চলতি অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
 
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে হিমায়িত খাদ্য ও মাছ, কৃষিজাত পণ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য, রাবার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, বিশেষায়িত টেক্সটাইল, ওভেন গার্মেন্টস, জাহাজ ও কম্পিউটার সেবা পণ্যসহ বেশির ভাগ পণ্য। এর বাইরে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সমর্থ হয়েছে প্রকৌশল পণ্য, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, প্রিন্টেড ম্যাটেরিয়েল।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top