সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সাংবিধানিক অন্যান্য পদে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপষিদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যবৃন্দের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ৬টি খসড়া সংশোধনী প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। এতে বেতন-ভাতা প্রায় দ্বি-গুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ৬টি সংশোধনী হচ্ছে- রাষ্ট্রপতির (বেতন-ভাতা: সংশোধনী) বিল-২০১৫, প্রধানমন্ত্রীর (বেতন-ভাতা: সংশোধনী) বিল-২০১৫, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীবৃন্দের (বেতন-ভাতা: সংশোধনী) বিল-২০১৫, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের (বেতন-ভাতা: সংশোধনী) বিল-২০১৫, সংসদ সদস্যবৃন্দের (বেতন-ভাতা: সংশোধনী) বিল-২০১৫ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকবৃন্দের (বেতন-ভাতা: সংশোধনী) বিল-২০১৫।
এগুলো অর্থবিল হওয়ায় তা অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এরপর বিলগুলো জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে। এতে চলতি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন এবং ২০১৬র ১ জুলাই থেকে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য আকাশ পথে ভ্রমণে বীমা সুবিধা ১৪ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বেচ্ছাধীন তহবিল ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকায় করা হয়েছে। স্পিকারের বেতন ৫৭ হাজার ২শ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার এবং প্রধান বিচারপতির বেতন ৫৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা, চিফ হুইপ এবং আপিল বিভাগের বিচারকগণের বেতন ৫৩ হাজার ১শ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকগণের বেতন ৪৯ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ও হুইপবৃন্দের বেতন ৪৭ হাজার ৮শ থেকে ৯২ হাজার টাকা হবে। উপ-মন্ত্রীদের বেতন ৪৫ হাজার ১৫০ থেকে ৮৬ হাজার ৫শ এবং সংসদ সদস্যদের বেতন ২৭ হাজার ৫শ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অন্যান্যের নিজস্ব বাড়িতে থাকার ক্ষেত্রে ভাতা, আকাশ পথে ভ্রমণে বীমা সুবিধা, দৈনিক ভাতা ও স্বেচ্ছাধীন তহবিল এবং আনুষঙ্গিক ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

