কুমিল্লার আদালত পাড়ায় সাবেক পিপি অ্যাড.মজিবুর রহমানের বাসায় স্বামী-স্ত্রী’র বিরোধ মিমাংসার সালিশে স্ত্রীর মামাসহ তার পক্ষের লোকেরা সবুজ নামের এক যুবককে মারধর করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর আদালত পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সবুজের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর রাতে তার মৃত্যু হয়।
ওই সালিশে থাকা বুড়িচং উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল করিম জানান, বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউপির মাধবপুর গ্রামের আবদুল বাকেরের ছেলে মো. সবুজ (২৬) প্রায় ১১ মাস আগে প্রেম করে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে ফাহিমা আক্তার মিমকে (২০) বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। ইতিমধ্যে মিম চার মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে সবুজকে না জানিয়ে ক্লিনিকে গিয়ে গর্ভপাত ঘটায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবুজ মিমকে মারধর করে। মিম স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করার প্রস্তুতি নিলে উভয় পক্ষের স্বজনরা কুমিল্লা বারের সাবেক পিপি অ্যাড. মজিবুর রহমানের শরণাপন্ন হন।
সোমবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীতে উভয় পক্ষের লোকেরা অ্যাড. মুজিবুর রহমানের বাসায় সালিশে বসে। মাগরিবের আযানের সময় সালিশ বিরতি দেয়া হয়। নিহতের চাচা সুলতান আহাম্মদ জানান, মিমের মামা আরমানসহ তার সহযোগীরা সবুজকে মারধর করে মারাত্মক আহত করার পর বিষ খাইয়ে তা আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে সালিশের প্রধান অ্যাড. মজিবুর রহমান বলেন, মিমাংসা করে দেয়ার জন্য উভয় পক্ষকে ডেকেছিলাম, কিন্তু বিরোধ মিমাংসার পর্যায়ে না গিয়ে তারা ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। তবে কিভাবে সবুজের মৃত্যু হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। রাতে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রব জানান, দাম্পত্য কলহের কারনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

