পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিতিশীলতায় উস্কানি দেয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরত থাকা উচিত। শনিবার বিবিসি উর্দু বিভাগের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন তিনি। গতকাল রবিবার দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আগামীকাল ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ওয়াশিংটন সফরের আগে এই মন্তব্য করলেন তিনি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ারস গ্রুপের (এনএসজি) সদস্য হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে শর্ত দেয়া হয়, এজন্য পাকিস্তানকে পরমাণু কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতার নীতি মেনে চলতে হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক মার্কিন বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, আফগানিস্তানের কুন্দুজের এমএসএফ হাসপাতালে পাকিস্তানি তালেবান কার্যক্রম পরিচালনা করতো।
নওয়াজ শরিফের যুক্তরাষ্ট্র সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কুন্দুজ হাসপাতালে পাকিস্তানি তালেবানের উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন সরতাজ। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে পাকিস্তানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে কোনো সমঝোতা হবে না, তবে পরমাণু কর্মসূচির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়া, সমঝোতা নয়। সরতাজ আজিজ জানান, এনএসজি’র সদস্য হওয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। আশা করি পাকিস্তান এবং ভারত একইসঙ্গে এই গ্রুপের সদস্য হবে।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইচ্ছামতো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু যখন পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে তখন এই পরাশক্তির এমন কোনো কৌশল অবলম্বন করা উচিত নয় যাতে সেটা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সমস্যা সমাধানে আলোচনা চায়।

