আলোর খেলায় ঐতিহ্য সুরক্ষার আহ্বান

S M Ashraful Azom
অন্ধকার আকাশে উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিতে মন রাঙিয়ে দেয়। পুরনো ভবনটি যেন মোহময় কোনো স্বপ্নপুরী বলে ভ্রম হবে সবার। কিন্তু আলো নিভে গেলে দিনের আলোয় জরাজীর্ণ ভবনটি মনে করিয়ে দেয় পুরনো জৌলুসের কথা। মনে করিয়ে দেয় ঐতিহ্যের স্থাপনাগুলোকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি।
 
পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত ও ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলোকে সংরক্ষণের তাগিদে আলোকায়নের এ আয়োজনটি করে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ঢাকা, গ্যেটে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ এবং আরবান স্টাডি গ্রুপ (ইউএসজি)। ‘পুরান ঢাকা আলোকায়ন—পাদপ্রদীপে ঐতিহ্য’ শীর্ষক এ আয়োজনে দেবী নিবাসকে আলোকায়িত করেন ফ্রান্স ও জার্মানির দুই  আলোকশিল্পী ক্রিস্টফ ব্রুয়াস ও ফিলিপ গাইস্ট। নদীর ধারে একটি দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ দেবী নিবাস। সদরঘাটের খুব কাছে। উনিশ শতকের একজন ব্যবসায়ী এবং জমিদার ভবনটি নির্মাণ করেন। দোতলা ভবনটি নদীসংলগ্ন ঢাকার একটি স্মৃতিচিহ্ন। নিওক্লাসিক্যাল ধারায় নির্মিত ভবনটি তালবৃক্ষে আচ্ছাদিত ছিল। ‘আহসান মঞ্জিলের’ কাছেই এমন একটি সুরম্য ভবন সাধারণের অগোচরেই ছিল বেশিরভাগ সময়।  অনেক অযত্ন এবং অবহেলার পরও ভবনটির সৌকর্য টিকে আছে। গতকাল সন্ধ্যায় নৃত্যের সঙ্গে আলোক প্রক্ষেপণে উদ্ভাসিত হলো ফরাশগঞ্জের প্রাচীন ভবন দেবী নিবাস। দেবী নিবাসকে আলোকায়নের আগে ছিল সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফরাসি দূতাবাসের উপ-প্রধান জঁ পিয়ের পোন্সে ও জার্মান দূতাবাসের উপ-প্রধান ড. ফার্দিনান্ড ফন ভাইয়ে।
 
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় আলোকায়নের আয়োজন। প্রথমেই চারপাশের আলো নিভিয়ে শুরু হয় আয়োজন। উনিশ শতকের এক জমিদার দ্বারা নির্মিত ভবনটির বিভিন্ন স্থানে আলো প্রক্ষেপণ করা হয়। নিওক্লাসিক্যাল ধারায় নির্মিত ভবনটির নানা অংশের তালবৃক্ষের মাঝেও ছিল আলোর আয়োজন। আলোকায়নের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। স্যাক্সোফোন আর বাঁশি বাজিয়ে শোনান রাহিন হায়দার। শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন স্নাতা শাহরিন ও তার দল। সঙ্গে ছিল পুরান ঢাকার ভবনগুলোর নতুন রূপের সম্ভাব্য আলোকচিত্র। আজ শনিবারও থাকছে এই আলোকায়নের আয়োজন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ আলোকায়ন চলবে। প্রসঙ্গত, এ আয়োজনের আংশিক আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে ফ্রাঙ্কো-জার্মান ফান্ড। সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
 
শিল্পকলায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া
 
কলেজের নাটক
 
ঢাকার মঞ্চে নাটক করল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের নাটকের দল। গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এই দলটি মঞ্চায়ন করে তাদের নিজস্ব প্রযোজনার নাটক ‘গোমতীর উপাখ্যান’। এটি ছিল ‘গোমতী উপাখ্যান’-এর পঞ্চম প্রদর্শনী। নাটকটির সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন নাট্যদলটির পরিচালক মোজাম্মেল হোসাইন সোহেল। ড. মুকিদ চৌধুরী রচিত ও নির্দেশিত এই নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন: সম্পা রানি সিংহ, দিপা রানি দাস, মানসুরা সাথী, ফারহানা আহমদ, রাকিবা জ্যোতি, সোহেল রানা জয়, শাহতাত্ সরকার, মোর্শেদুল হাসান ভূইয়া, মো. আসাদুজ্জামান, মো. ওমার ফারুক, মো. খায়রুল বাশার বাঁধন, মো. আল আমিন, নূর হোসাইন রাজিব, রাশেদ-উল ইসলাম, মাহমুদ-উল ইসলাম, মো. তৌহিদ-উল ইসলাম, সোহাগ শান্তনু, ওয়ালি উল্লাহ হূদয়, রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোসেইন, মো. আরিফ, আল-আমিন কাজি রিয়ান, রিপন চৌধুরী আপন, আরিফুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।
 
রবিরশ্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
 
কথামালা, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নাচের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার ১৭তম বর্ষ উদ্যাপন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন রবিরশ্মি। গতকাল বিকেলে সুফিয়া কামাল গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। সংগঠনের শিল্পীদের সমবেত সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। ‘অনেক দিনের আমার যে গান’ শীর্ষক এ আয়োজনে একক আবৃত্তি পরিবেশন করে বাচিকশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন প্রতিশ্রুতিশীল নৃত্যশিল্পীরা। রবিরশ্মির এ আয়োজনে কবিগুরুর গান পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, রাবেয়া আক্তার, পারমিনা তোড়া উইলয়াম, দীলিম কুমার দাস, কনক হালদার, সৃষ্টি সরকার, বিষ্ণুপদ দাশ, হ্যাপী দাশ, রুমা সাহা প্রমুখ।
 
রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের
 
শারদীয় উত্সব
 
নাচ, গান ও আলোচনার মধ্য দিয়ে শারদীয় উত্সব-১৪২২ উদ্যাপন করেছে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ। গতকাল ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত হয় এই শারদীয় উত্সব। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন লিলি ইসলাম, আজিজুর রহমান, সালমা আকবর, ফাহমিদা খাতুন, তূর্য্য প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন তরুণ প্রজেন্মর নৃত্যশিল্পীরা।
 
গ্যালারি চিত্রকে দলীয় প্রদর্শনী
 
গ্যালারি চিত্রকে গতকাল শুরু হয়েছে ‘ইনিভার্সেল ইস্টেতিক ল্যাঙ্গুয়েজ’ শীর্ষক দশ দিনব্যাপী প্রদর্শনী। সমকাল শিল্পী গোষ্ঠীর ৪০ জন শিল্পীর শতাধিক চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে এ প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সব শ্রেণির দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামী ২৬ অক্টোবর শেষ হবে এগারো দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী।
 
শিল্পকলা একাডেমিতে
 
ন্যাচারস লাভ
 
শিল্পী এ আরিফ শাহীনের চিত্রকর্ম নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি-৪-এ শুরু হলো ‘ন্যাচারস লাভ’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী। গতকাল বিকেলে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। ৪৯টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। ২২ অক্টোবর শেষ হবে সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top