পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
প্যারিসে আগামী জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করে
বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে বিশ্ব
নেতৃবৃন্দকে একটি আইনি বাধ্যবাধকতার চুক্তিতে আসতে হবে। তিনি বলেন, মানব
সভ্যতা শুরু থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, যার ফলে পৃথিবী
আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। আমাদের যে সম্পদ এবং জ্ঞান রয়েছে তা দিয়েই
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা যাবে। জাপানে অনুষ্ঠিত ‘ইনোভেশন ফর
কুল আর্থ ফোরাম’ (আইসিইএফ) এর বাত্সরিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে আনোয়ার হোসেন
মঞ্জু একথা বলেন। বিশ্বের মোট ৭০টি দেশের এক হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি এ
সম্মেলনে যোগ দেন। বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা ছাড়াও শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং
বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
আনোয়ার
হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কোন দেশ বা জাতির একার সমস্যা নয়। এটি
একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ পরিবর্তনের প্রভাব থেকে উন্নত, উন্নয়নশীল এবং
দরিদ্র কোন দেশই বাদ যাবে না। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সমস্যার সমাধান
করতে হবে। তিনি বলেন, কাউকে দোষারোপ করা নয় বরং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরা
পৃথিবীকে বাঁচাতে পারি। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের
ঐকান্তিক আগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের তাপমাত্রা কমিয়ে আনার জন্য
প্যারিসে একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে তা হবে
দুর্ভাগ্যজনক। কারণ পেরুতে অনুষ্ঠিত গত বছরের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে এ
বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো হয়েছিলো। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
এমনকি চীন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
এতে করে বিষয়টির গুরুত্ব আরো বেড়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং উন্নয়ন পাশাপাশি
চলতে হবে। পরিবেশ রক্ষার নামে উন্নয়ন বন্ধ হলে দারিদ্র্য বাড়বে। এর ফলে
সমস্যা আরো জটিল হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় যে পরিমাণ
অর্থ সাহায্যের অঙ্গীকার করা হয়েছিলো সে পরিমাণ অর্থ ছাড় হচ্ছে না। এরপরও
বাংলাদেশ তার সীমিত অর্থ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করে
যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাত থেকে আটটি মন্ত্রণালয় জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব
মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
সম্মেলনের ঘোষণা
আইসিইএফ
এর সম্মেলন শেষে একটি ঘোষণা বের করা হয়। এই ঘোষণায় তিনটি বিষয়ে জোর দেয়া
হয়েছে। এর একটি হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা জোরদার করা এবং এ
সংক্রান্ত নীতির বাস্তবায়ন করা। এ খাতে ব্যক্তিখাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
বলে ঘোষণায় বলা হয়। দ্বিতীয় ঘোষণায় বলা হয়, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা কম
কার্বন নিঃসরণকারী যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে জোর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে
সৌরবিদ্যুতের উত্পাদন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় ঘোষণায় বলা হয়,
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক
পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে বহুজাতিক সংস্থা যেমন বিশ্বব্যাংক,
এডিবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়।

