‘দুঃখের রজনী শেষ, আলোর পথে যাত্রা শুরু’

S M Ashraful Azom
অধুনালুপ্ত দাসিয়ারছড়া সিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের অন্ধকার ঘুচে গেল এক মিনিটেই। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইস টিপে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের মধ্যে একযোগে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেন। ৬৮ বছরে কোন রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি দাসিয়ারছড়ায় গিয়ে বিদ্যুতের এ সংযোগ উদ্বোধন করেন। এরমধ্যে দাসিয়াছড়ির সাড়ে ৭শ’ পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে। এছাড়া ইডকলের প্রোগ্রামের অধীনে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
পরে সেখানে অবস্থিত কালিরহাট বাজার সংলগ্ন প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা বালিকা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধুনালুপ্ত সিটমহলবাসীর দীর্ঘ দিনের কষ্ট দূর করাসহ সার্বিক কল্যাণে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সদ্য বিলুপ্ত সিটমহলবাসীর অন্ধকার ও দুঃখের রজনী শেষ হয়েছে, এখন তারা আলোর পথে যাত্রা করছে। তাদের এ যাত্রা আগামী অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যে সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সব মন্ত্রণালয়কে অধুনালুপ্ত সিটমহলের সার্বিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ কারণে অর্থের কোন সমস্যা থাকছে না। 
 
২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে। বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। 
 
তিনি বলেন, লাখে শহীদের রক্তে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এতো মানুষের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। 
 
দাসিয়ারছড়াবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে আপনাদের কোন ঠিকানা ছিল না। এ কারণে এখানে আসতে পারেনি। এখন আপনারা আমাদের আপন মানুষ, এদেশেরই নাগরিক। দাসিয়ারছড়া এখন ছিটমহল নয়, এটি বাংলাদেশের অন্তর্গত ফুলবাড়ির এলাকা। আমি ফুলবাড়িতে এসেছি। ফুলবাড়ি এখন নতুন প্রস্ফুটিত ফুলের এক বাগান এবং এখানকার নাগরিকরা এখন এক একজন ফুল। তিনি দাসিয়ারছড়ার উদ্দেশে বলেন, আপনারা ভুলেও এখন আর নিজেদেরকে ছিটের বাসিন্দা বা ছিটি মনে করবেন না, বলবেন না। 
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেন অন্ধকারে না থাকেন সেজন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। আড়াইহাজার পরিবারকে পল্লি বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। দাসিয়ারছড়া এলাকায় তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। হাইস্কুল, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছি। চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য উদ্যোগ  দেয়া হয়েছে। পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রামে তিনটি করে হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া কাঁচা রাস্তা প্রশস্ত করে পাকা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
 
এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি সকাল সাড়ে দশটার কিছু সময় পর ফুলবাড়ী উপজেলায় নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পরে সেখান থেকে তিনি সড়ক পথে দাসিয়ারছড়ায় আসেন।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top