বিদেশি দুই নাগরিক খুন হওয়ার পর দেশ-বিদেশে চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা তৈরি হয়। কয়েকটি দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাচল এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচিত এই দুই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে ফেলেছে গোয়েন্দা সংস্থা। ৬টি সংস্থার বিরামহীন তদন্তে বেরিয়ে এসেছে খুনি কারা এবং তাদের মোটিভ কি ছিল।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছে, দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে।
দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করেন দুইটি রাজনৈতিক দলের চারজন নেতা। গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে পরিকল্পনাকারীদের নামও বেরিয়ে এসেছে।
পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, অপেক্ষা করুন, অচিরেই দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য জাতির কাছে উন্মোচন করা হবে। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা আছে তখনই সেটা দেখা যাবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল রবিবার পূজায় নিরাপত্তা বিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিং এ বিদেশি নাগরিক হত্যা রহস্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা চেজারের খুনি শনাক্ত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভও নিশ্চিত। খুনিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, জাপানি নাগরিক কুনিয়ো হোশি হত্যাকাণ্ডে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কারা অংশগ্রহণ করেছে সেটাও তদন্তে বের হয়ে এসেছে। পুরো বিষয়টি এখন গোয়েন্দাদের কাছে পরিষ্কার।
শুরু থেকেই পুলিশ ও র্যাবসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন, তাভেল্লা চেজার এবং কুনিয়ো হোশির হত্যাকাণ্ড একইসূত্রে গাঁথা। বলেছেন, তাভেল্লা চেজারের খুনের সঙ্গে কুনিয়ো হোশি হত্যার ধরনে মিল রয়েছে। একইভাবে গুলি করে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা অপেক্ষারত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। হত্যাকারীরা যে পেশাদার এ ব্যাপারেও নিশ্চিত ছিলেন গোয়েন্দারা।
এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাকে কোনো মহলের বড় ধরনের ষড়যন্ত্র বলেই প্রথম থেকে বলে আসছিলেন গোয়েন্দারা। ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়ার আলুটারি এলাকায় কুনিয়ো হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর গুলশান এলাকায় ইতালির নাগরিক তাভেল্লা চেজারকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। উভয় ক্ষেত্রেই ঘাতকরা মোটরবাইকে করে পালিয়ে যায়। দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডেই মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে। গুলি করে খুনিরা একইভাবে পালিয়ে যায়। দুইটি হত্যাকাণ্ডেই মোটরসাইকেলে করে খুনিরা এলেও আশপাশে আরও কয়েকজন অবস্থান করছিল। পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্যই খুনিরা এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন গোয়েন্দারা।

