সৌদি সরকার অর্থ সংকটে :কমাচ্ছে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা

S M Ashraful Azom
তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরবের বাজেটে বেশ টান পড়েছে। এখন ধার করে অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে হচ্ছে দেশটিকে। চলতি বছরের জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত স্থানীয়দের কাছ থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে সৌদি সরকার। ‘ইকোনোমিস্ট’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব বাধ্য হয়ে সরকারি খরচ কমিয়ে আনছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আল আসাফ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়গুলোকে ইতিমধ্যে নতুন গাড়ি, ফার্নিচার ইত্যাদি না কিনতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোন অর্থ ছাড় করা হবে না।
 
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মূলত জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে পড়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে সৌদি আরব। ২০০৩ সালে যে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল একশ’ মার্কিন ডলার ছিলো এখন তা ৫০ ডলারের নীচে নেমে গেছে। অথচ সরকারের মোট আয়ের ৯০ শতাংশ আসে জ্বালানি তেল রপ্তানি খাত থেকে।
 
প্রসঙ্গত, আরব বসন্তে মধ্যপ্রাচ্য উত্তাল হবার পর সৌদি সরকার তার নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বোনাস এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ফলে দেশটির ব্যয় বেড়ে গেছে। ইয়েমেন ও সিরিয়া যুদ্ধের কারণেও সৌদি আরবকে বড় মাপের অর্থ খরচ করতে হয়েছে। একদিকে এসব খরচ আর অন্যদিকে প্রধান আয়ের খাত জ্বালানি তেলের দাম কমে যাবার ফলে বেশ বেকায়দায় পড়েছে দেশটি। তবে সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে সৌদি আরব তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
 
দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে সৌদি আরবকে অনেক কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে ব্যক্তির ওপর করারোপ। বিভিন্ন পণ্যে উত্পাদন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বসানোর পরিকল্পনাও করছে সৌদি সরকার। নাগরিকদের জ্বালানি তেলের ওপর যে ভর্তুকি দেয়া হতো তা ফিরিয়ে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। এছাড়া সরকারি চাকুরেদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে আনার ব্যাপারেও শীর্ষ মহলে আলোচনা চলছে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top